বাংলায় নতুন পেনশন ব্যবস্থা লাগু হওয়ার আগেই চরম হুঁশিয়ারি, কী করবেন কর্মীরা?

Published:

Pension

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ যত সময় এগোচ্ছে ডিএ নিয়ে জট আরও দীর্ঘ হচ্ছে। এদিকে এখন সরকারি কর্মী থেকে পেনশন (Pension) ভোগীদের নতুন মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এনপিএস। সূত্রের খবর, সরকার হয়তো বাংলায় পুরনো পেনশন ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে এনপিএস (NPS) অর্থাৎ ন্যাশনাল পেনশন স্কিম লাগু করতে পারে। কিন্তু সরকার যদি জোর করে এই কাজ করে তাহলে বাংলাজুড়ে তীব্র আন্দোলনের চরম হুঁশিয়ারি দিল বিভিন্ন কর্মী সংগঠন।

এনপিএস লাগু হলে চরম আন্দোলনের হুঁশিয়ারি কর্মীদের

ইউনিয়নগুলির কথা অনুযায়ী, সরকার যদি এনপিএস অথবা ইউনিফায়েড পেনশন স্কিম বা ইউপিএস (UPS) চাপানোর চেষ্টা হলে, তার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন হবে বলে। মহার্ঘ্য ভাতা আদায়ের ক্ষেত্রে যে আন্দোলন হয়েছিল দরকারের সেই ধাঁচেই কিংবা তার থেকেও তীব্র আন্দোলন করা হবে। অর্থাৎ তাঁদের হুঁশিয়ারি থেকে স্পষ্ট, কেউ চায় না পুরনো পেনশন ব্যবস্থা উঠে যাক। আসলে এই নতুন পেনশন ব্যবস্থা সম্পর্কে জল্পনা উস্কে দিয়েছেন পেনশন নিয়ন্ত্রক পিএফআরডিএ-র চেয়ারম্যান এস রামন।

গত শুক্রবার শহরের এক অনুষ্ঠানে পেনশন নিয়ন্ত্রক সংস্থা PFRDA-র চেয়ারম্যান এস. রামন বড় মন্তব্য করেন। তিনি বলেছেন, কেন্দ্র ও অধিকাংশ রাজ্যে NPS চালু রয়েছে এবং “ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও এটি চালু করবে।” বাজারনির্ভর এই ব্যবস্থায় অবসর জীবনের সঞ্চয় কতটা নিরাপদ থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে সরকারি কর্মীদের মধ্যে। যদিও এস রামনের দাবি, বাজারভিত্তিক হলেও গত ১৫ বছরে NPS-এ গড়ে ৯–৯.৫% রিটার্ন মিলেছে।

কী বলছে ইউনিয়নগুলি?

এদিকে শনিবার পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী বড় মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুরনো পেনশন ব্যবস্থাই রাখতে চাই। এনপিএসের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে আন্দোলন করছি। এ রাজ্য সরকার চালু পেনশন ব্যবস্থা তুলে এনপিএস চাপাতে চাইলে দলমত নির্বিশেষে তার তীব্র বিরোধিতা করব। প্রয়োজনে ধর্মঘটও হবে। আগামী ১২ ডিসেম্বর দিল্লিতে রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভ সমাবেশ আছে। এনপিএসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো অন্যতম উদ্দেশ্য।’

আরও পড়ুনঃ এদিনের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কর্মীদের হাতে এল রিপোর্ট

অন্যদিকে ইউটিইউসি-র সাধারণ সম্পাদক অশোক ঘোষের আবার বক্তব্য, “এনপিএসের টাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার বাজারে ঢালা হয়। এর আগে জমা টাকায় বেশি সুদ দিতে প্রভিডেন্ট ফান্ডের তহবিলের একাংশ শেয়ারে লগ্নি শুরু হলেও, এখনও পর্যন্ত সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে লোকসান হয়েছে।”