অনন্যা সরকার, শিলিগুড়ি: প্রতি মুহূর্তে একটু একটু করে বিপদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে শিলিগুড়ি-সিকিম সড়ক যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক (NH 10)। রাস্তার ধারে পাহাড়ের অবস্থা ভয়ঙ্কর। যে কোনও মুহুর্তে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তে পারে (Landslide)। একটু একটু করে প্রতিদিনই সেই পথে এগোচ্ছে। কখনও মাটি, কখনও বড় বড় পাথরের চাঁই গড়িয়ে নেমে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে রাস্তা। এই পরিস্থিতিতে ড্রোজার ও জেসিবি নামিয়ে পাহাড় কেটে নতুন করে রাস্তা বানানো চলছে। তবে মেরামত হতে না হতেই আবার ধস নেমে একই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে দৈনন্দিন জনজীবন থেকে পর্যটন শিল্প – সবই ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় মানুষ থেকে পর্যটক সবারই প্রশ্ন একটাই, এমনটা আর কতদিন চলবে। ‘লাইফ লাইন’ ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের অস্তিত্ব নিয়ে গবেষকরাও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ধীরে ধীরে শেষ হচ্ছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক
ভূমিধসের কারণে পাহাড়ের প্রায় ২০ মাইল বা ৩২ কিলোমিটার অঞ্চলে বিপজ্জনক অবস্থা। প্রায় প্রতিদিন পাথর ও মাটি ধসে পড়ছে। ফলে ওই রাস্তা মানুষের চলাচলের জন্য ব্যবহারযোগ্য করে তোলাই মুশকিল হয়ে পড়ছে প্রশাসনের জন্য। বারবার নতুন করে পাহাড় কাটতে হচ্ছে, এর ফলে বিপদ আরও বাড়ছে বলে মত ভূতত্ত্ববিদদের। এই প্রসঙ্গে চোপড়া কলেজের অধ্যক্ষ ও ভূগোলের গবেষক মধুসূদন কর্মকারকে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেন হিমালয়ের এই অঞ্চলটি অপেক্ষাকৃতভাবে নবীন। তাই এর শিলা ও মাটি অত্যন্ত দুর্বল এবং দ্রুত ক্ষয় হয়ে যায়। তাই ভারী বৃষ্টির চাপ সহ্য করতে পারছে না, মাটি-পাথর ধসে পড়ছে।
আরও পড়ুন: রাজ্যের শিল্পে জোয়ার, কেন্দ্রের ‘ভব্য’ প্রকল্পে নাম উঠে এল নদিয়া এবং আসানসোলের
তিনি জানিয়েছেন, ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ২০ মাইল এলাকায় এই বারংবার ভূমিধস হওয়ার মূল কারণ হল পাহাড়ের দুর্বল ও আলগা মাটি, অতিভারী বৃষ্টিপাত এবং অপরিকল্পিত ভূ-প্রকৃতি। এই অঞ্চলে ভারী যানবাহন চলাচল বাড়ার সাথে সাথে ভূ-কম্পনের জেরে আলাগা মাটি ও নরম পাথরে ফাটল ধরে ভূমিধস বৃদ্ধি পাবে। বৃষ্টির সময় ওপর থেকে পাথর ও মাটি গড়িয়ে পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ করবে।
ভূগোল গবেষকের মতে, সড়ককে চওড়ায় বাড়ানো এবং অন্যান্য কাজের দরুন পাহাড়ের স্বাভাবিক ঢাল নষ্ট হয়ে গেছে। এরফলে ওই বিস্তীর্ণ অঞ্চল আরও বেশি ধসপ্রবণ হয়ে উঠেছে। এই একই অবস্থা ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক এলাকাতেও। শিলিগুড়ি ও সিকিমের মধ্যে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। পরিকল্পনা ও উন্নয়নের অভাবের ফলে প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে প্রত্যেক দিন। এছাড়া, বদলাচ্ছে বৃষ্টিপাতের ধরনও। এই পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো হয়েছে যে জাতীয় সড়কের অস্তিত্ব কতদিন টিকে থাকবে, তা নিয়েই এখন আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় বিজ্ঞানীর ঝুলিতে আন্তর্জাতিক সম্মান, পেলেন স্টিফেন হকিং-কে দেওয়া ‘ডিরাক মেডেল’
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ একমাস পর সোমবার সকাল থেকে ২০তম মাইল (20th Mile) এলাকা দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল আবার শুরু হয়েছে। এতে কিছুটা স্বস্তিতে বারদাং ও সিংতামের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে চলা সড়ক সমস্যায় রংপো, সিংটাম, বারদাং ও পার্শ্ববর্তী এলাকার দৈনন্দিন জনজীবনে ব্যাপকভাবে প্রভাব পড়ছিল। যদিও এখন কিছুটা স্বস্তি, তবে যান চলাচল কতদিন স্বাভাবিক থাকে সেটাই এখন দেখার।










