প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নতুন সরকার (Government Of West Bengal) আসতেই রাজ্যে শিল্প ব্যবস্থায় উন্নতিতে নয়া সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ভারত ঔদ্যোগিক বিকাশ যোজনা’ প্রকল্পে (BHAVYA) দুই শিল্পতালুকের প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য সরকার, আর সেই তালিকায় রয়েছে নদিয়ার (Nadia) ধুবুলিয়া, এবং অন্যটি হল পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল (Asansol)। ইতিমধ্যেই সেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রের কাছে। রবিবার নবান্নে এই কথা জানিয়েছেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়।
কেন্দ্রের কাছে দুই শিল্পতালুকের প্রস্তাব রাজ্যের
প্রাপ্ত রিপোর্ট মোতাবেক রাজ্যে এবার শিল্পায়নের গতি আনার জন্য গতকাল অর্থাৎ রবিবার, নবান্নে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ভারত ঔদ্যোগিক বিকাশ যোজনা’ (Bharat Audyogik Vikas Yojna) বা ভব্য প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গকে শামিল করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। শিল্প দফতরের আওতাভুক্ত দু’ডজন শিল্পতালুকের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে। তবে সেক্ষেত্রে আপাতত এই প্রকল্পে দু’টি শিল্পতালুকের জন্য প্রস্তাব পাঠাচ্ছে রাজ্য সরকার। একটি হল নদিয়ার ধুবুলিয়া এবং অন্যটি হল পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের ঢাকেশ্বরী কটন মিলের জমি। অত্যাধুনিক শিল্প পার্ক গড়ে তোলাই ভব্য-র লক্ষ্য। ১০০টি এই ধরনের শিল্পতালুক দু’দফায় আপাতত ৫ বছরের মধ্যে তৈরি হবে দেশের সব রাজ্যে। বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে ৩৩,৬৬০ কোটি টাকা।
🚨WHERE THERE IS A WILL, THERE IS A WAY — BENGAL IS BACK IN THE BHAVYA RACE🏭
Yesterday, I reported that West Bengal had submitted ZERO proposals in Round 1 of the ₹33,660-crore BHAVYA industrial park scheme.
Today, a very different picture emerges.
Bengal has identified… https://t.co/Il14P1TFCt
— West Bengal Diary (@WestBengalDiary) August 9, 2026
কী বলছেন শিল্প মন্ত্রী?
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ধুবুলিয়া এবং আসানসোলের ঢাকেশ্বরী কটন মিলের এই দুই জায়গায় জমির পরিমাণ যথাক্রমে ১১৮.৫ এবং ১৪৮.৬১ একর। চলতি মাসের মধ্যে এই দুই জমির তথ্য কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হবে। এ দিন নবান্নে শিল্প মন্ত্রী তাপস রায় জানান, “পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ল্যান্ড ব্যাঙ্ক থেকে নির্দিষ্ট শিল্পনীতি, বিশেষত ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস, ইনসেনটিভ ও সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম কিছুই কার্যকর করেনি। ছিল না রাজ্যের নিজস্ব এজেন্সি। তাই ভব্য প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে যোগ দিতে পারেনি রাজ্য। সবটা ঠিকঠাক করে সেই কারণে দ্বিতীয় পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গ ভব্য প্রকল্পে যোগ দেবে।” এদিকে রাজ্যে এখন ৪৩টি শিল্পতালুক থাকলেও বেশিরভাগ জায়গাতেই পরিকাঠামো তৈরি হয়নি, তাই সেখানকার হাল পর্যালোচনা করে, খামতি চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
আরও পড়ুন: বিকেলে দুর্যোগ দক্ষিণবঙ্গে, মঙ্গলেও জারি থাকবে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি, আগামীকালের আবহাওয়া
জানা গিয়েছে, আগামীকাল, মঙ্গলবার নবান্ন সভাঘরে বণিকসভা ও শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক হবে। আর সেখানে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেলে প্রকাশিত হবে শিল্পনীতি। নবান্নে রবিবার সিঙ্গুর প্রসঙ্গও তোলেন তাপস রায়। তাঁর কথায়, “গত ১৫ বছরে সিঙ্গুরে শিল্প হয়নি, চাষও হয়নি। সিঙ্গুরের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবনাচিন্তা করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গাড়ি ছাড়াও টাটা গোষ্ঠীর আরও অনেক ব্যবসা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যে কোনও ক্ষেত্রে টাটাদের রাজ্যে নিয়ে আসতে। এর আগে হাওড়ায় আমূলের দই কারখানার জন্য অনেক আগে ফুড পার্কের জমি দেওয়া থাকলেও তিন জবরদখলকারীর জন্য কাজ শুরু করতে পারছিল না সংস্থা। কিন্তু নতুন সরকার আসতেই জবরদখলকারী উচ্ছেদ করে প্রকল্প রূপায়ণ করা হয়েছে।”










