প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দেবীপক্ষের সূচনার ঠিক আগেই শুরু হয় পিতৃপক্ষ। শাস্ত্রমতে, এই সময় পরলোকগত পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে তর্পণ (Tarpan) করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। যাঁরা পরলোকগত পূর্বপুরুষের মৃত্যু তিথিতে বাৎসরিক শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করতে পারেন না, তাঁদের জন্য পিতৃপক্ষের অমাবস্যার তিথিতে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করার বিধান (Mythology) রয়েছে। কিন্তু জানেন কেন মহালয়ার (Mahalaya 2026) ভোরে তর্পণ করা হয়? চলুন আমাদের প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
রামচন্দ্র বিহারে গিয়েছিলেন পিতৃতর্পণ করতে
জ্যোতিষ শাস্ত্রে জানানো হয়েছে, পূর্বপুরুষ, ঋষি, পিতামাতা এবং গুরুর উদ্দেশে খাদ্যদ্রব্য ও জল নিবেদন করে তাঁদের শ্রদ্ধা জানিয়ে তুষ্ট করাই হল তর্পণ। এই শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ ‘তৃপ’ (তৃপ্ত করা) থেকে। পুরাণে বলা হয়েছে পিতৃপুরুষ তুষ্ট হলে, তাঁদের আশীর্বাদে জীব দশায় দীর্ঘায়ু, ধন সম্পত্তি, জ্ঞান, শান্তি এবং মৃত্যুর পর স্বর্গ ও মোক্ষ লাভ হয়। তাইতো মহালয়ার দিন প্রচুর মানুষকে গঙ্গাঘাটে তর্পণ করতে দেখা যায়। তবে এই তর্পণের ইতিহাস রামায়ন ও মহাভারতে দু’টি পৃথক কাহিনীর উল্লেখ করে। রামায়ণে বলা হয় রামচন্দ্র স্বস্ত্রীক নাকি বিহারের গয়ায় ফলগু নদীতে পিতৃতর্পণ করতে এসেছিলেন। তখন থেকেই মর্ত্যে পিতৃতর্পণের প্রচলন বলে ধরে নেওয়া হয়।
দাতা কর্ণকেও করতে হয়েছিল তর্পণ
মহাভারতে আবার তর্পণের আলাদা প্রচলন কাহিনী আছে। বলা হয়, কর্ণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সময় স্বর্গপ্রাপ্তী হলে সেখানে তাঁকে খাবার হিসেবে স্বর্ণ, ধনরত্ন দেওয়া হয়। তখন সে দেবরাজ ইন্দ্রকে বলেছিলেন ধনরত্ন কেন? সেই প্রশ্নের জবাবে দেবরাজ ইন্দ্র বলেন, আপনি মর্ত্যে দু’হাতে ধনরত্ন বিলিয়েছেন। কিন্তু পূর্বপুরুষকে জল দান করেননি। এদিকে কর্ণ নিজের পিতৃ পরিচয় জানতেন না, তাই দেবরাজ ইন্দ্র কর্ণকে একপক্ষ কালের জন্য মর্ত্যে পাঠান, পিতৃতর্পণের জন্য। সেই একপক্ষ কালকে পিতৃপক্ষ হিসেবে ধরা হয়।
আরও পড়ুন: কেন বিমানে কম অ্যালকোহল খেলেও বেশি নেশা হয়?
মহালয়ার ভোরে কেন করা হয় তর্পণ?
জ্যোতিষ শাস্ত্রমতে সূর্য কন্যারাশিতে প্রবেশ করলে পিতৃপক্ষ শুরু হয় এবং মহালয়ার দিন পিতৃপক্ষ শেষ হয়ে দেবীপক্ষের শুরু হয়। আসলে মহালয়া পক্ষের পনেরোটি তিথি আছে। তাদের নাম হল, প্রতিপদ, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী, একাদশী, দ্বাদশী, ত্রয়োদশী, চতুর্দশী ও অমাবস্যা। তবে অমাবস্যার দিন তিথি না থাকলেও সব পূর্বপুরুষের শ্রাদ্ধ করা হয়। এভাবেই তাই হাজার হাজার বছর ধরে পিতৃপক্ষ ও দেবীপক্ষের সন্ধিক্ষণে পিতৃতর্পণ চলে আসছে। সাধারণত পুত্রসন্তানেরা পিতৃতর্পণ করে থাকেন। তবে এখন মহিলারাও সেই তর্পণে অংশগ্রহণ করেন।










