অনন্যা সরকার, কলকাতা: জ্যোতিষশাস্ত্রে শনির গোচর (Saturn Transit) বা রাশি পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। কর্মফলদাতা শনির গতি পরিবর্তন রাশিচক্রের ১২টি রাশির ওপরই সুনির্দিষ্ট প্রভাব ফেলে। এর ফলে বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকার জীবনে ‘সাড়ে সাতি’ (Shani Sade Sati) বা ‘ঢাইয়া’ (Dhaiya) শুরু হতে পারে অথবা শেষ হতে পারে। এই মুহূর্তে শনি মীন রাশিতে অবস্থান করছে, অর্থাৎ মেষ, মীন ও কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকার ওপর এখন ‘সাড়ে সাতি’-র প্রভাব চলছে। অনেকে এই সময়টিকে বেশ কঠিন বলে মনে করেন। নানা বাধা বিপত্তি ও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করায় শনির এই অবস্থান। আগামী বছর জুন মাসে এই তিন রাশির জন্য সাড়ে সাতির পরবর্তী পর্যায় শুরু হবে। আসুন কোন রাশি কোন পর্যায়ে প্রবেশ করবে এবং সাড়ে সাতির অশুভ প্রভাব কম করার কিছু উপায় জেনে নেওয়া যাক।
তিন রাশি আগামী বছর সাড়ে সাতির পরবর্তী পর্যায়ে প্রবেশ করবে
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩ জুন শনি মেষ রাশিতে প্রবেশ করতে চলেছে। এই রাশি পরিবর্তনের ফলে বেশ কয়েকটি রাশির ক্ষেত্রে ‘সাড়ে সাতি’-র চক্রে পরিবর্তন আসবে। মেষ রাশির ক্ষেত্রে বর্তমানে ‘সাড়ে সাতি’-র প্রথম পর্যায় চলছে, শনি এই রাশিতে প্রবেশ করলে দ্বিতীয় পর্যায়ের সূচনা হবে।
মীন রাশির ক্ষেত্রে এখন দ্বিতীয় পর্যায় চলছে, তাই শনি মেষ রাশিতে প্রবেশ করলে তৃতীয় বা শেষ পর্যায় শুরু হবে। কুম্ভ রাশির ক্ষেত্রে বর্তমানে তৃতীয় বা শেষ পর্যায় চলছে, ২০২৭ সালে শনি মেষ রাশিতে প্রবেশ করলে এই রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এই চক্রটি সমাপ্ত হবে। আবার, একই সময়ে বৃষ রাশির জাতক-জাতিকার জীবনে সাড়ে সাতির প্রথম পর্যায় শুরু হবে।
আরও পড়ুন: আদিবাসী মেয়ে হবে ডাক্তার! NEET ক্র্যাক করে স্বপ্ন পূরণের পথে আলিপুরদুয়ারের কন্যা বাবলি
সাড়ে সাতির অশুভ প্রভাব কমানোর উপায়
সাড়ে সাতি চলাকালীন কিছু নিয়ম পালন করলে শনির অশুভ প্রভাব কিছুটা কমতে পারে। এর জন্য, প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় শনি মন্দিরে সর্ষের তেলের সঙ্গে কালো তিল মিশিয়ে প্রদীপ জ্বালান। প্রতিদিন ভগবান শিবকে জল অর্পণ করুন ও শমী গাছের নিচে প্রদীপ জ্বালান। এর সাথে, সবসময় গুরুজন ও অধীনস্থদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলুন। এছাড়া, ‘শিব চালিসা’ পাঠ করলে ও প্রতি শনিবার অশ্বত্থ গাছে জল দিলে সুফল পাওয়া যায়। সাড়ে সাতি চলাকালীন সবসময় খেয়াল রাখতে হবে যেন আপনার কোনো আচরণে অন্য কেউ কষ্ট না পায়। এছাড়া, ‘ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ’ – এই মন্ত্রের জপ করলে শনিদেবের কৃপা বর্ষণ হবে। প্রতিদিন ‘হনুমান চালিসা’ ও ‘শনি চালিসা’ পাঠ করলে শনিদেব প্রসন্ন হন বলে বিশ্বাস করা হয়।
বিঃ দ্রঃ – এই নিবন্ধটি জ্যোতিষশাস্ত্রের দাবি ও প্রচলিত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। এখানে সম্পূর্ণ নির্ভুল বা চূড়ান্ত বলে দাবি করা হচ্ছে না। বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার জন্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।










