স্কুলের ফি দেওয়ার ছিল না টাকা, আধপেটা খেয়ে বস্তির ছেলে জয়কুমার আজ নাসার ইঞ্জিনিয়ার

Published:

Success Story of NASA Scientist Jaykumar Vaidya

অনন্যা সরকার, মহারাষ্ট্র: কথায় বলে ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়। তবে এটি কেবল কথার কথা নয়, অনেকেই নিজের জীবন দিয়ে এই প্রবাদটিকে সত্যি প্রমাণ করেছেন। তাদের মধ্যেই একজন হলেন মুম্বাইয়ের জয়কুমার বৈদ্য (Success Story of Jaykumar Vaidya)। মুম্বাইয়ের কুরলার বস্তিতে ৮ ফুট বাই ১০ ফুটের একটি ছোট্ট ঘর থেকে তাঁর যাত্রা শুরু হয়, যা তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে নাসার (NASA) গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে। সেখানে এখন তিনি মহাকাশ গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব যন্ত্রপাতি তৈরির কাজে যুক্ত আছেন। আসুন তাঁর এই সাফল্য ও সংগ্রামের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।

আধপেটা খেয়েও লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন জয়কুমার

শৈশব থেকে জয়কুমারের জীবনটা ছিল চরম সংগ্রামের। তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গে কুরলার বস্তির একটি ছোট ঘরে থাকতেন। তাঁর মা নানা রকমের ছোটখাটো কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। জয়কুমার নিজেও টেলিভিশন মেরামতের কাজ করতেন, যা থেকে মাসে ৪,০০০ টাকা আয় হতো। এরসাথে পড়াশোনার খরচ জোগাতে টিউশনিও করতেন।

তবে আর্থিক সংকট এতটাই তীব্র ছিল যে, একটা সময় স্কুলের বকেয়া ফি পরিশোধ করতে পারেননি বলে তাঁর পরীক্ষার রেজাল্ট আটকে দেওয়া হয়েছিল। তবে, এত প্রতিকূলতাও তাঁর মনোবলে এতটুকু আঁচড় কাটতে পারেনি। ছোটবেলায় টিভিতে মহাকাশ বিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিশেষ করে ‘ভয়েজার’ মিশন এবং মঙ্গল গ্রহে পাঠানো শুরুর দিকের রোভারগুলোর ওপর নির্মিত অনুষ্ঠানগুলি দেখে তিনি মহাকাশ গবেষণার প্রতি গভীরভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুন: প্রতি সিলিন্ডারে ২৪৫ টাকা লোকসান HPCL-র, নভেম্বরে বাড়বে LPG-এর দাম?

জয়কুমার মুম্বাইয়ের কে. জে. সোমাইয়া কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।  পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়াতে পড়ার সুযোগ পান। সেখান থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন জয়কুমার। তিনি রোবোটিক্সে ৩টি জাতীয় ও ৪টি রাজ্য পর্যায়ের পুরস্কার জিতেছেন এবং দেশে টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ (TIFR)-এ গবেষক হিসেবেও কাজ করেছেন।

বর্তমানে জয়কুমার বৈদ্য নাসার সোলার সিস্টেম এক্সপ্লোরেশন ডিভিশনের ‘প্ল্যানেটারি এনভায়রনমেন্টস ল্যাবরেটরি’-তে ‘মাস স্পেকট্রোমিটার ক্যালিব্রেশন ইঞ্জিনিয়ার’ ও ‘গ্রাউন্ড সাপোর্ট অপারেশনস লিড’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর কাজের একটি প্রধান দিক হলো ‘কোয়াড্রুপোল মাস স্পেকট্রোমিটার’ (QMS)-এর ডাইনামিক সেন্সিটিভিটি রেঞ্জ বা সংবেদনশীলতার পরিধি উন্নত করা। এর ফলে অত্যন্ত কম ঘনত্বের আয়নগুলোকেও নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং মাঝারি থেকে উচ্চ ঘনত্বের আয়নগুলোরও সঠিক পরিমাপ করা যায়। মহাকাশের গ্রহগুলির বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠন বোঝার জন্য এই প্রযুক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে কুরলার ছোট্ট ৮x১০ ফুটের ঘর থেকে নাসার গবেষণা গবেষণাগারে পৌঁছেছেন জয়কুমার বৈদ্য। তাঁর এই সাফল্যপ্রমাণ করে যে, যদি কারো প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম করার ক্ষমতা থাকে, তবে দারিদ্র্য কখনোই স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

google button