যোগান বাড়াতে আরও এক দেশ থেকে পাম তেল আমদানি করছে ভারত, কমবে দাম?

Published:

palm oil

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা! তাই জোরকদমে বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে ভারত। সেই পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া (Colombia)। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া বায়োডিজেলে পাম তেলের (Palm Oil) ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ায় খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য এই তেলের জোগান কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কলম্বিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করে আমদানির উৎস বাড়াতে চাইছে ভারতের ভোজ্যতেল শিল্প।

কী পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত?

ভারতের ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সংগঠন সলভেন্ট এক্সট্র্যাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (SEA)-র সভাপতি অংশু মালিক জানিয়েছেন, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম পাম তেল উৎপাদক দেশ কলম্বিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ করার সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।। সাম্প্রতিক সময়ে কলম্বিয়া ভারতকে প্রায় ২ লক্ষ টন পাম তেল সরবরাহ করেছে। ফলে এই দেশ থেকে আমদানি আরও বাড়ানো গেলে ভারতকে আর নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের উপর ভরসা করে থাকতে হবে না।

কলম্বিয়ায় প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা

এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আগামী বছরের শুরুতেই কলম্বিয়ায় একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে SEA। পাশাপাশি কলম্বিয়ার জাতীয় পাম তেল উৎপাদক সংগঠন ফেডেপালমা (Fedepalma)-র সঙ্গে একটি সমঝোতাপত্র বা MoU স্বাক্ষরেরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হতে পারে।

শুধু কলম্বিয়া নয়, মোজাম্বিকের সঙ্গেও উদ্যোগ

ভোজ্যতেলের আমদানির উৎস বাড়ানোর প্রচেষ্টায় আরও একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে SEA। সংগঠনটি মোজাম্বিকের নামপুলা প্রদেশের সরকারের সঙ্গে একটি আগ্রহপত্রে স্বাক্ষর করেছে। এর উদ্দেশ্য, ভারত ও ওই অঞ্চলের মধ্যে ভোজ্যতেলের বাণিজ্য গড়ে তোলা সম্ভব কি না তা খতিয়ে দেখা। অর্থাৎ, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পেতে ভারত একাধিক বিকল্পের কথা বিবেচনা করছে।

SEA-র বক্তব্য অনুযায়ী, বায়োফুয়েল নীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত প্রবাহ, দামের ওঠানামা এবং চাহিদা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলি বর্তমানে ভোজ্যতেল ও তেলবীজের বাজারকে প্রভাবিত করছে। তাই বিদেশ থেকে আমদানির উৎস বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে তেলবীজের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজনের উপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর প্রসঙ্গে ২০২৭-২৮ বিপণন মরশুমের জন্য সর্ষে ও কুসুমের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করেছেন SEA-র সভাপতি।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রেপসিড ও সর্ষের MSP কুইন্টালপ্রতি ৪১৩ টাকা বেড়ে ৬,৬১৩ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে, কুসুমের MSP কুইন্টালপ্রতি ৬৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৭,২১৫ টাকা করা হয়েছে। তবে শুধু সহায়ক মূল্য বাড়ালেই যে কৃষকের আয় নিশ্চিতভাবে বাড়বে, তা নয়। সরকারি সংগ্রহের ব্যবস্থা, বাজারে ফসল বিক্রির সুযোগ এবং কৃষক বাস্তবে কত দাম পাচ্ছেন, তার উপরও নজর দিতে হবে।

আরও পড়ুন: “মমতা ব্যানার্জিকে দিয়ে আর হবে না” বিজেপিকে হারাতে রাহুলেই ভরসা হুমায়ুনের

SEA-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া ২০২৫-২৬ বিপণন বছরের প্রথম ১১ মাসে ভারতে মোট ভোজ্যতেল আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫.১৬ মিলিয়ন টন, অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ৫১ লক্ষ ৬০ হাজার টন। তাই বিশ্বের বৃহত্তম ভোজ্যতেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের কাছে আন্তর্জাতিক বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে কলম্বিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত সহযোগিতা যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ভারতের পাম তেল আমদানির বিকল্প সংস্থান আরও বিস্তৃত হতে পারে।

google button