আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছাপ্রকাশ থেকে শুরু করে দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মন্তব্যে একাধিকবার আলোচনায় উঠে এসেছেন মুর্শিদাবাদের নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। গত ৭ অক্টোবর রেজিনগর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে ভোট লুটের অভিযোগ তুলে রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের কথা বলেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে দুবাইয়ে চলে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন হুমায়ুন। তবে মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করার পরেই দেশ ছাড়বেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এবার বিজেপিকে (Bhartiya Janata Party) পরাজিত করার প্রশ্নে বিরোধী দলের নেতৃত্ব নিয়ে মুখ খুললেন এই বিধায়ক হুমায়ুন (Humayun Kabir)।
কী বললেন নওদার বিধায়ক?
বিজেপিকে হারানোর প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের উপরে আস্থা না রেখে রাহুল গান্ধীকেই বিরোধীদের প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরার অনুপ্রেরণা দেন হুমায়ুন। তাঁর বক্তব্যের ইঙ্গিত, আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে কংগ্রেসের পাশে দাঁড়াতে হবে। মমতার নেতৃত্বে বিজেপিকে হারানো সম্ভব নয় বলে যে অবস্থান তিনি নিয়েছেন, তা রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।
হুমায়ুন কবীরের কথায়, “রাহুল ছাড়া প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য বিকল্প মুখ আর কে আছে? মমতা ব্যানার্জিকে দিয়ে আর হবে না। ইন্ডি জোটে থাকা দলগুলি যেন নিজেদের দ্বিচারিতা বন্ধ করেন। রাহুলের হাতকে শক্তিশালী করার কাজ করেন। তাহলেই ২০২৯ সালে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা যাবে।” অর্থাৎ, তাঁর মতে, বিরোধী শিবিরের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন বন্ধ করে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বকে শক্তিশালী করাই হওয়া উচিত পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির অন্যতম লক্ষ্য। তবে এই বক্তব্য হুমায়ুনের একেবারে নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান। বিরোধী জোটের অন্য দলগুলি এই প্রস্তাবে কী পরিকল্পনা নেবে, তা আলাদা বিষয়।
আরও পড়ুন: এই একজন ছিল বলেই ভারতকে হারাতে পারল না নিউজিল্যান্ড
অন্যদিকে, ‘গদ্দার’ প্রসঙ্গেও এর আগে সরব হয়েছিলেন হুমায়ুন। আবারও সেই একই প্রসঙ্গ টেনে আনলেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, মমতা ব্যানার্জি কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছিলেন। যাঁদের নিয়ে তিনি দল তৈরি করেছিলেন তারাই গাদ্দারি করে অন্য দলে যোগ দিয়েছে আর এখন রাজত্ব করছে। এছাড়াও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বয়স নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। তাঁর মতে, মমতা ব্যানার্জির বয়স হচ্ছে। নতুন করে বিরোধী দলের মুখ হয়ে ওঠা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়। তাই রাহুল গান্ধীকেই একমাত্র ভরসাযোগ্য বলে মনে করছেন বিধায়ক।










