প্রেমিকের বাড়ি থেকে কাঁদতে কাঁদতে ফেরার পরই আত্মহত্যা, সায়নীর মৃত্যু নিয়ে বড় তথ্য

Published:

Sayoni Chakraborty

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: প্রতিদিন অকালেই চলে যায় কত প্রাণ। তবে তাঁদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষ মনে থেকে যান। তাঁদের মধ্যে একজন সুন্দরীর দিদি তথা জনপ্রিয় ভ্লগার সায়নী চক্রবর্তী (Sayoni Chakraborty)। মা-মেয়ে সঙ্গে সুন্দরী, চক্রবর্তী পরিবারের জমজমাটি ভ্লগ দেখতে পছন্দ করতেন অনেকেই। কিন্তু এভাবে অচিরেই যে সকলের প্রিয় মেয়ে সায়নীকে চলে যেতে হবে সে কথা বোধহয় স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি কেউই। সায়নীর মৃত্যুর ধাক্কা নিতে পারেননি অনুগামীরা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিতভাবে মারা হল সায়নীকে? রবিবার পর্যন্তও ভ্লগারের মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন করা যায়নি।

ঠিক কীভাবে মৃত্যু হল সায়নীর?

বাড়িতে নিজের ঘর থেকেই উদ্ধার হয়েছিল সায়নী চক্রবর্তী মৃতদেহ। কনটেন্ট ক্রিকেটারের এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে ঘনাচ্ছে রহস্য। প্রশ্ন উঠছে, আদতেই কি আত্মহত্যা করেছিলেন সুন্দরীর দিদি? এ ঘটনায় প্রথমে আলাদা করে মামলা দায়ের করা হয়নি। বরং পুলিশই স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলার রুজু করে। শুরু হয় তদন্তও। আগেই সায়নীর মরদেহ পাঠানো হয়েছিল ময়না তদন্তের জন্য। পুলিশরে তরফে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে যা বোঝা যাচ্ছে তাতে আত্মহত্যা করেছেন ওই ভ্লগার।

এদিকে, সম্প্রতি সায়নীর মা মলি চক্রবর্তী গোটা ঘটনার নেপথ্যে মেয়ের প্রেমিককে দায়ী করেছেন। মেয়ের মৃত্যুর পর মা মলি জানান, গত চার বছর ধরে মেয়ে সায়নীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ত্রিবেণীর এক যুবকের। মায়ের সাথে বন্ধুর মতোই মিশতেন সায়নী। সেই সূত্রে এই সব কথা মাকে জানিয়ে ছিলেন তিনি। এমনিতে হাসিখুশি থাকতেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তবে সায়নীর মা এও জানিয়েছিলেন, বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর থেকে অনেক কিছু লুকাচ্ছিলেন সুন্দরীর দিদি।

মলিদেবী বলেন, “মেয়ের বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি ও গত দু তিন দিন ধরে মানসিক সমস্যার মধ্যে ছিল। ঘটনার আগের দিন প্রেমিকের বাড়িতে গিয়েছিল আমার মেয়ে। পরে সেখান থেকে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে আসে। নিশ্চয়ই প্রেমিকের বাড়িতে এমন কোনও ঘটনা ঘটেছে বা এমনভাবে আমার মেয়েকে হেনস্থা করা হয়েছে যাতে শেষ পর্যন্ত ও এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল। আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।”

অবশ্যই পড়ুন: কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার জমিতে বাড়ি, মদন মিত্রর বাসভবনের তালা ভেঙে ঢুকল পুলিশ

সায়নীর মা জানিয়েছেন, তাঁর মেয়েকে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। প্রেমিকের বাড়িতেই সায়নীর সাথে অত্যন্ত বাজে ব্যবহার করা হয়েছে। সেই ভিত্তিতে মেয়ের প্রেমিকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে সায়নীর পরিবার। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত পুলিশ এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয়!