আধার না থাকলেও বঞ্চনা নয় সরকারি প্রকল্পে, এই নথিগুলির সাহায্যে করা যাবে ভেরিফিকেশন

Published:

Aadhaar Card not Mandatory for Government Welfare Scheme

অনন্যা সরকার, নয়াদিল্লি: বর্তমানে সরকারি প্রকল্পের (Government Welfare Scheme) অধীনে সুবিধা পাওয়ার জন্য বেশিরভাগ ভেরিফিকেশন আধার কার্ডের (Aadhaar Card) মাধ্যমেই করা হয়। তবে, দেশের সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক (Ministry of Social Justice and Empowerment) সম্প্রতি তাদের একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, যাদের আধার নেই, তাদের কোনো সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এই ধরনের পরিস্থিতিতে যাচাইকরণ সম্পন্ন করার জন্য কোন কোন নথি ব্যবহার করা যেতে পারে, তা-ও স্পষ্ট করে জানিয়েছে মন্ত্রক।

আধার না থাকলেও কোনো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প থেকে বঞ্চিত নয়

মিনিস্ট্রি অফ সোশ্যাল জাস্টিস অ্যান্ড এম্পাওয়ারমেন্ট-এর জারি করা বিজ্ঞপ্তিটি দুটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য – ১.তফসিলি জাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য বিনামূল্যে কোচিং প্রকল্প, যা ‘পিএম কেয়ারস ফর চিলড্রেন’ (‘PM CARES for Children) প্রকল্পের সাথে যুক্ত এবং ২. তফসিলি জাতিভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চমানের শিক্ষা বৃত্তি প্রকল্প। আধার আইন, ২০১৬-এর ৭ নম্বর ধারার অধীনে এই বিজ্ঞপ্তিটি জারি করা হয়েছে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, আধার না থাকলে ১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীরা এনরোলমেন্ট আইডি সম্বলিত আধার এনরোলমেন্ট রসিদ জমা দিতে পারেন। এছাড়া, বয়সের প্রমাণ হিসেবে বার্থ সার্টিফিকেট, দশম বা দ্বাদশ শ্রেণির মার্কশিট, কোনো স্বীকৃত শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া সার্টিফিকেট বা পাসপোর্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: রাশিয়ার তেল কিনলেও ভারতের উপর ১০০% শুল্ক চাপাবে না আমেরিকা, নতুন সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের

এর পাশাপাশি, অভিভাবকের সাথে সম্পর্ক প্রমাণের জন্য রেশন কার্ড, কাস্ট বা রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট অথবা মার্কশিটের মতো নথিগুলি জমা দেওয়া যেতে পারে। আইনত অভিভাবকের ক্ষেত্রে আদালত বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া আদেশনামা প্রয়োজন। নেপালি বা ভুটানি পাসপোর্ট অথবা বৈধ ভিসা/পাসপোর্ট এবং অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ওসিআই (OCI – Overseas Citizen of India) কার্ড প্রযোজ্য। 

অন্যদিকে ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে, আধার কার্ড না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এনরোলমেন্ট রসিদের পাশাপাশি বৈধ সচিত্র পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে রেশন কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, দশম বা দ্বাদশ শ্রেণির শংসাপত্র, কাস্ট বা রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট, বিমা সংক্রান্ত পরিচয়পত্র, সরকারি কর্মচারীর পরিচয়পত্র কিংবা প্রতিবন্ধী শংসাপত্র।

আরও পড়ুন: বাড়ি থেকে গ্রেফতার অভিজিৎ দীপকে, এবার কি তিহার জেলে জায়গা হবে সিজেপি প্রধানের?

প্রসঙ্গত, যদি আঙুলের ছাপ যাচাই করা সম্ভব না হয়, তবে মুখমণ্ডল বা আইরিস স্ক্যান ব্যবহার করা যেতে পারে। যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে ওটিপি (OTP)-এর মাধ্যমে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। যদি ওটিপি-ও ব্যবহার করা সম্ভব না হয়, তবে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে কিউআর (QR) কোড বা অফলাইন ই-কেওয়াইসি (e-KYC) ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে ইউআইডিএআই (UIDAI)-এর ডিজিটাল সাইন যাচাই করে তার সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, আধার কার্ড না থাকার কারণে কোনো যোগ্য শিক্ষার্থীর বৃত্তি আটকে রাখা যাবে না। এ ধরনের ক্ষেত্রে, বাবা-মা বা আইনি অভিভাবকের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা যেতে পারে, এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগ নথিপত্র সংরক্ষণ করবে ও তা নিয়মিত পর্যালোচনা করবে।

google button