অনন্যা সরকার, কলকাতাঃ এদেশে সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের (Government Employees) নিয়মানুবর্তিতা ও কাজের নিষ্টা নিয়ে বরাবরই নানান অভিযোগ উঠে আসে। দেরিতে অফিস পৌঁছানো বা সময়ের কাজ সময়ে শেষ না করা নিয়ে বিভিন্ন রাজ্য সরকারি ও কেন্দ্র সরকারি কর্মচারীদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। এই বিষয়ে এবার কড়া সিদ্ধান্ত নিল বিহারের (Bihar) নবনির্বাচিত সম্রাট চৌধুরীর সরকার। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ‘ওয়ার্ক কালচার’ শুধরোতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। তার মধ্যে দেরিতে আসলে বেতন কাটার মতো কঠোর নির্দেশও রয়েছে।
কী কী কড়া নিদান দিলেন সম্রাট চৌধুরী?
রিপোর্ট অনুযায়ী, জেনারেল এডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট থেকে বিহারের প্রায় ১০ লক্ষ সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে ‘আল্টিমেটাম’ জারি করা হয়েছে। এই আদেশ অনুযায়ী, এবার থেকে সরকারি অফিসে দেরিতে আসলে মাইনে কাটা হবে। সকল কর্মচারীর জন্য সময়মতো অফিসে আসা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে হাজিরা ব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ ও নিয়মমাফিক করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি খুব শীঘ্রই রাজ্যের প্রত্যেকটি অফিসে কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
শুধু অফিসে হাজিরা নয় অফিসে থাকাকালীনও কর্মীরা যাতে কাজে ফাঁকি না দিতে পারেন তার জন্যও বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যেমন- লাঞ্চ ব্রেকের সময় আধ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যেই কর্মচারীদের মধ্যাহ্নভোজ সারতে হবে। সমস্ত কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হবে বলেও আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নতুন নিয়মে সরকারি দপ্তর চালু থাকার সময়ও স্থির করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অফিস চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি অবধি সকাল ১০:৩০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কর্মীদের ডিউটি করতে হবে। লাঞ্চ ব্রেক চলবে দুপুর ১:৩০টা থেকে ২টা পর্যন্ত।
আরও পড়ুনঃ চালু হল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নতুন ওয়েবসাইট, দেখুন ঠিকানা ও আবেদন পদ্ধতি
নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে বিভিন্ন মহলে এই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর এই পদক্ষেপ অনেকেই ইতিবাচক ভাবে দেখছেন। এর ফলে কর্মীদের মধ্যে কাজের একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি হবে এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় কাজ সময়ের মধ্যে শেষ করার তাগিদও তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নির্দেশিকা জারি করা এবং গ্রাউন্ড লেভেলে তা সম্পাদন করা কতটা সফল হবে সেটাই এখন দেখার।










