প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কিছুদিন আগেই রাজ্য বাজেটে স্কুলের মিড ডে মিল (Mid Day Meal) নিয়ে বিশেষ ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে, কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হবে ইসকনকে (ISKCON)। আর এই ঘোষণার পরেই পড়ুয়াদের খাবারের গুণগত মান নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ওঠে। পড়ুয়াদের পাতে আর ডিম পড়বে কি না, সেই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। এমতাবস্থায় সোমবার বিকাশ ভবনে ফের মিড ডে মিলের প্রসঙ্গ তোলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
মিড ডে মিল নিয়ে বিশেষ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, সোমবার বিকাশ ভবনে শিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় সংক্রান্ত একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উপস্থিত ছিলেন একাধিক সরকারি আধিকারিক এবং উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেখানেই মিড ডে মিলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “কলকাতা-সহ একটি বড় অংশের মিড ডে মিলের দায়িত্ব পাচ্ছে ইসকন। ১ অগস্ট থেকেই মিড ডে মিল বিতরণ শুরু করবে তারা। এজন্য কিছু ভর্তুকিও দিচ্ছে। হাই-কোয়ালিটির খাবার দেবে।” অন্যদিকে ডিম নিয়ে চলা বিতর্কে স্পষ্ট জানান, “আপনারা আরও কয়েকদিন ডিম আর ইসকন নিয়ে আলোচনা করুন। বাকিটা ১ আগস্ট বলব।”
মিড ডে মিলে মাথাপিছু বেড়েছে বরাদ্দ
মিড ডে মিল ইসকন বিতর্ক নিয়ে গত ২২ জুন বিধানসভায় সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, ”শ্যামাপ্রসাদের দেখানো পথেই বাংলা চলবে। স্বামী বিবেকানন্দের ভাবনায় বাংলা চলবে। রামকৃষ্ণ মিশন, গৌড়ীয় মঠ, ভারত সেবাশ্রম, ইসকনের দেখানো পথে পশ্চিমবঙ্গ চলবে। এই সংস্কৃতির থেকে বিচ্যুতি ঘটবে না। পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে আমরা ইসকনকেই পুরো কলকাতায় মিড ডে মিল খাবার সরবরাহ করার জন্য দায়িত্ব দিচ্ছি।” এছাড়াও প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের জন্য বাজেটে মাথাপিছু বরাদ্দ বাড়িয়ে ১০ টাকা করার ঘোষণা করা হয়েছে। এখন দেখার মিড ডে মিলের তালিকায় ডিমের ঠাঁই হয় কিনা।
আরও পড়ুন: “দমনের নীতি কার্যকর করা খুব প্রয়োজন..” গুণ্ডাদমন আইন নিয়ে ভিন্ন সুর বাবুলের
প্রসঙ্গত, ১ আগস্ট থেকে পিএম পোষণ প্রকল্পের অধীনে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের দৈনিক রান্নার খরচে বরাদ্দও বাড়াতে চলেছে রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিদ্যালয়গুলোতে আয়োজিত খাবারের পুষ্টি ও মান উন্নয়নের লক্ষ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যুগান্তকারী ও জনমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য দৈনিক ‘ ডায়েট’-এর খরচ ৫৬.৬৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০.০০ টাকা করা হয়েছে। মিলবে উন্নতমানের সুষম আহার।










