“দমনের নীতি কার্যকর করা খুব প্রয়োজন..” গুণ্ডাদমন আইন নিয়ে ভিন্ন সুর বাবুলের

Published:

Babul Supriyo

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বহু তর্ক বিতর্কের পর অবশেষে রাজ্যে অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। গতকাল অর্থাৎ সোমবার, আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হল ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬’। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই আইন বলবৎ হওয়ার পর পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের ক্ষমতা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। তবে এই আইন নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে একাধিক মতপার্থক্য থাকলেও ভিন্ন সুর শোনা গেল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র গলায়।

গুণ্ডাদমন আইন নিয়ে বড় পদক্ষেপ

গত ২৯ জুন, বিধানসভায় পাশ হয়েছিল গুণ্ডাদমন আইন। মূলত, রাজ্যে একের পর এক অপরাধ, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, বেআইনি জমি দখল, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট, অবৈধ বালি ও পাথর উত্তোলনের মতো কর্মকাণ্ডে দ্রুত লাগাম টানতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। কোনও ব্যক্তি বা কোনও গ্যাং, সিন্ডিকেট কিংবা অপরাধচক্রের সদস্য হিসেবে নিয়মিত সমাজবিরোধী কাজে যুক্ত থাকলে তাঁকে এই আইনের আওতায় যেমন আনা হবে ঠিক তেমনই অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক, মানবপাচার-সহ একাধিক গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদেরকেও চরম শাস্তি দেওয়া হবে। আর এবার এই আইন নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন বাবুল সুপ্রিয়।

কী বলছেন বাবুল সুপ্রিয়?

সূত্রের খবর, গতকাল, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। সেখানে তাঁকে তিনি সমাজবিরোধী কার্যকলাপ সংক্রান্ত আইনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, “আমি বরাবরই বলে আসছি যে, যারা চুরি করেছে, সে যেই হোক না কেন, তাদের জেলে যাওয়া উচিত; তারা জেলে যাক, নরকে যাক। এটা হতেই হবে। আর যারা এলাকায় এলাকায় গুণ্ডামি বা উপদ্রব চালায়, তাদের দমনের নীতি কার্যকর করা খুবই প্রয়োজন। তবে এই আইনের যাতে কোনো অপব্যবহার না হয় সেদিকে নজর রাখা খুব জরুরি।” যদিও রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘কালা কানুন’ হিসেবে কটাক্ষ করেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, এই আইনটিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।

আরও পড়ুন: কুণাল ঘোষকে জরিমানা হাইকোর্টের

বিরোধীদের কটাক্ষ উড়িয়ে প্রশাসনের সাফ কথা, রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে এই ‘কঠোর দাওয়াই’ অপরিহার্য। অন্যদিকে কলকাতা বিমানবন্দরের বাঁকরা মসজিদ প্রসঙ্গে বাবুল সুপ্রিয় বলেন, “রানওয়ের এলাকার মধ্যে মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা অন্য যা-ই থাকুক না কেন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যদি কোনো কারণে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সে বিষয়ে মন্তব্য করার অধিকার আমাদের নেই। কারণ বিমান চলাচলের নিরাপত্তাই সর্বপ্রধান বিষয়।” আর এই ভিন্ন সুর নিয়ে রাজনৈতিক সমালোচকদের মধ্যে শুরু হয়েছে এক নয়া গুঞ্জন। তবে কি ফের দল বদল করবেন বাবুল সুপ্রিয়?