অনন্যা সরকার, কলকাতা: বর্তমানে এই ডিজিটাল যুগে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রই ধীরে ধীরে ডিজিটাইজ হয়ে যাচ্ছে। কিছু বছর আগেও জন্ম শংসাপত্র (Birth Certificate) দেওয়া হত হাতে লিখে, তবে এখন ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেটই ইস্যু করা হয়। যাদের কাছে এখনও হাতে লেখা জন্ম শংসাপত্র রয়েছে, তারা সহজ কয়েকটি ধাপে বিনামূল্যে ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট বানিয়ে নিতে পারেন। কীভাবে? চলুন জেনে নিই।
ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট কেন জরুরী ?
হাতে লেখা জন্ম শংসাপত্রের থেকে ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট বেশি কার্যকরী। কেননা হাতে লেখা কাগজের বার্থ সার্টিফিকেটে অনেক সময় পেনের কালি ছড়িয়ে যায় ও লেখা অস্পষ্ট হয়ে যায়। সেখানে প্রিন্ট করা ডিজিটাল সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা তৈরি হয় না। এছাড়া হাতে লেখা জন্ম শংসাপত্র হারিয়ে গেলে, সেটি আবার পাওয়ার জন্য বারংবার সরকারি অফিসে ছুটতে হয়। কিন্তু ডিজিটাল সার্টিফিকেট হারালেও কোনো সমস্যা নেই, ঘরে বসেই কয়েকটি ক্লিকে সরকারি পোর্টাল থেকে ডাউনলোড করে নেওয়া যায় এই নথি। কম্পিউটারাইজড বা ডিজিটাল সার্টিফিকেটে কিউআর কোড (QR Code) বা ডিজিটাল সিগনেচার থাকে, যা সহজেই সরকারি বা বেসরকারি দফতরগুলি স্ক্যান করে যাচাই করে নিতে পারে।
কীভাবে ডিজিটাল করা যাবে হাতে লেখা জন্মের শংসাপত্র?
প্রথমে মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে CRS সার্চ করে orgi.gov.in ওয়েবসাইটটি খুলতে হবে। এর পর সেখানে থাকা জেনারেল পাবলিক সাইন আপ (General Public Sign Up) অপশনে ক্লিক করে আবেদনকারীর নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল আইডি সহ প্রয়োজনীয় তথ্যগুলি দিয়ে লগইন (Login) অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন করার পর প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে পাঠানো হবে একটি ওটিপি (OTP)। সেটি দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করে নতুন পাওয়া লগইন তথ্যগুলি দিয়ে পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। পোর্টালের প্রধান ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে বার্থ সেকশন। সেখানে ক্লিক করে অ্যাড ওল্ড বার্থ ইভেন্ট (Add Old Birth Event) অপশনে যেতে হবে।
এখানে আসলে খুলে যাবে একটি ফর্ম, যেখানে পুরনো হাতে লেখা জন্ম শংসাপত্র দেখে সঠিকভাবে সমস্ত তথ্যগুলি দিতে হবে। এরপর পুরানো বার্থ সার্টিফিকেটের স্ক্যান করা পিডিএফ (PDF) ফাইল এবং বাবা ও মায়ের স্ক্যান করা পরিচয়পত্র আপলোড করতে হবে। সমস্ত তথ্য দেওয়া হয়ে গেলে ভালোভাবে মিলিয়ে দেখে নিয়ে ফর্মটি সাবমিট করতে হবে। এরপর সম্পর্কিত দফতর আবেদনকারীর তথ্যগুলি যাচাই করে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করে দেবে। পরে একই পোর্টালে গিয়ে সাটিফিকেট ডাউনলোড করা যাবে।
আরও পড়ুনঃ মেলে ৫০,০০০ টাকা অবধি স্টাইপেন্ড! চলছে এই স্কলারশিপে আবেদন
ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করার আগে পুরোনো জন্ম শংসাপত্র, বাবা মায়ের পরিচয় পত্রের স্ক্যান কপি করে রাখলে সুবিধা হবে। প্রতিটি ফাইলের আকার যেন ২ এমবি (MB)-এর বেশি না হয়, তা খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া, সক্রিয় মোবাইল নম্বর, ইমেইল আইডি প্রস্তুত রাখা দরকার, কারণ এখানেই লগইনের জন্য ওটিপি আসবে।










