২ লক্ষ টাকা মাইনের চাকরি ছেড়ে শুরু করেন তুলসীর চাষ, এখন ৫০ লাখ আয় কৃষকের

Published:

Success Story of Tulsi Farmer Alok Pattnayak

অনন্যা সরকার, কেওনঝড়: ঔষধি গাছের চাষ বর্তমানে কৃষকদের কাছে আয়ের একটি নতুন উৎস হয়ে উঠছে। বাণিজ্যিকভাবে তুলসী গাছের চাষ (Basil Cultivation) করে ওড়িশার বাসিন্দা অলোক পট্টনায়েক ব্যাপক সাফল্যের মুখ দেখেছেন (Success Story of Alok Patnaik)। বাজারে এখন তুলসী তেলের বিশাল চাহিদা। এই তেলের প্রতি লিটারের দাম প্রায় ৪,০০০ টাকা থেকে শুরু। এই ব্যাপক চাহিদা দেখে মাসিক ২ লক্ষ টাকার চাকরি ছেড়ে এমবিএ (MBA) পাস অলোক পট্টনায়েক স্বল্প খরচ করে তুলসী চাষ শুরু করেন। আজ তিনি প্রচলিত চাষাবাদের চেয়ে চারগুণ আয় করছেন এই ওষধি উদ্ভিদের চাষ করে। আসুন অলোক পট্টনায়েকের সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।

বিদেশের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে শুরু চাষাবাদ

ওড়িশার কেওনঝড় জেলার বাসিন্দা অলোক পট্টনায়েক এমবিএ শেষ করার পর প্রায় কুড়ি বছর ধরে অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছেন। দিল্লি, বেঙ্গালুরু, গুরুগ্রাম থেকে বিদেশ –  বিভিন্ন জায়গায় কর্মসূত্রে ছিলেন তিনি। তাঁর মাসিক বেতন ছিল প্রায় ২ লক্ষ টাকা। কোভিড-১৯ অতিমারীর পর চাকরি ছেড়ে দিয়ে কৃষিকাজ শুরু করেন অলোক। শুরু থেকেই তার তাঁর আগ্রহ ছিল সুগন্ধি ও ঔষধি ফসলের প্রতি। 

অলোক পট্টনায়েক জানিয়েছেন, তিনি ২০২৩ সালে ২ একর জমিতে তুলসী চাষ শুরু করেন। তবে কৃষিক্ষেত্রে তাঁর কারিগরি জ্ঞানের অভাবে প্রথম বছরেই প্রায় ২ লক্ষ টাকার লোকসান হত। এরপর তিনি অনলাইন থেকে শেখা শুরু করেন এবং লখনউয়ের বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও প্রশিক্ষণ নেন। সঠিক কৌশল শিখে তিনি আবার চাষাবাদ শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে চাষের জমির পরিমাণও বাড়াতে থাকেন।

বর্তমানে অলোক পট্টনায়েক সুবিশাল ১০ একর জমিতে তুলসী চাষ করেন এবং আরও ৮ একর জমিতে চাষাবাদ সম্প্রসারণ করারও পরিকল্পনা করছেন। তিনি জানান, বর্তমানে বাজারে তুলসী তেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এর ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে ওষুধ কোম্পানি, বেকারি, খাদ্য শিল্প সহ অনেক বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। তুলসী তেলের বাজার দর প্রতি লিটারে প্রায় ৪,০০০ টাকা থেকে শুরু হয় এবং গুণমানের ওপর নির্ভর করে তা বাড়ে। অলোক বলেন, এক একর জমি থেকে বছরে প্রায় ১০০ লিটার তুলসী তেল পাওয়া যায়। প্রতি দুই মাস অন্তর ফসল কাটা হয়। তাই একর প্রতি প্রায় ৪ লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব। বর্তমানে, ১০ একর জমিতে চাষ করে অলোকের ব্যবসার আয় প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। এক একর জমিতে তুলসী চাষ শুরু করতে গড়ে ১৫,০০০ থেকে ১৮,০০০ টাকা খরচ হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে, তুলসী শুধু তেল তৈরিতেই নয়, আরও অনেক কাজে লাগে। তেল বের করে নেওয়ার পর অবশিষ্ট শুকনো পাতা গ্রিন টি এবং ভেষজ পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, এর অবশিষ্টাংশ ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য তৈরি করা যায়, যা কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ করে দেয়। অলোক পট্টনায়েক বর্তমানে সুভাষ, সৌম্য এবং শিশির প্রজাতির তুলসীর চাষ করছেন। তাঁর ফার্মে নিয়মিত ২২ থেকে ২৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। 

আরও পড়ুনঃ আর্ন্তজাতিক ‘মিশন শক্তিস্যাট’-এ ডাক পেল পূর্ব মেদিনীপুরের মেয়ে, তৈরি করবে স্যাটেলাইট

অলোক পট্টনায়েকের ফার্মে উৎপাদিত তুলসী তেল বর্তমানে দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ সহ দেশের বেশিরভাগ প্রধান বাজারগুলিতে রপ্তানি করা হয়। এমনকি তিনি এখন ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ড থেকেও অর্ডার পাচ্ছেন। তাঁর বিশ্বাস কৃষকরা যদি বৈজ্ঞানিকভাবে ঔষধি গাছের চাষ করেন এবং তার ফসলের জন্য উপযুক্ত বাজারের সাথে যোগাযোগ করেন, তাহলে তারা প্রচলিত কৃষিকাজের চেয়ে অনেক ভালো আয় করতে পারবেন।