প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্ষমতার রদবদল হতেই দুই মাসের মধ্যেই জনগণের স্বার্থে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বিজেপি সরকার (Government Of West Bengal)। এমতাবস্থায় রাজ্যে কর্মসংস্থান এবং শিল্প আরও সম্প্রসারিত করতে জমি নীতিতে বদল আনতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জানা গিয়েছে, ১০০ কোটির উপরে বাংলায় বিনিয়োগ করলে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে দেওয়া হবে সরাসরি ছাড়পত্র। লাগবে না কোনো অনুমতি।
জমি নীতি নিয়ে বড় পদক্ষেপ সরকারের
বিগত কয়েক বছরে, রাজ্যের বিভিন্ন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, জমিনীতি। একসঙ্গে বেশি জমি না মেলায় অনেক শিল্পকে মুখ ঘোরাতে হয়েছে এ রাজ্য থেকে। তবে এবার সরকার পরিবর্তন হতেই সেই জমি সমস্যা মিটতে চলেছে। বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে সরকার। শনিবার ডানকুনিতে হোসিয়ারি সংস্থার নতুন ইউনিটের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে গিয়ে, রাজ্যের জমি নীতি নিয়ে প্রথমবার বক্তব্য পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, “ রাজ্যে শিল্পের চমক আনতে বদলে দেওয়া হবে শিল্পের জন্য নেওয়া জমির ঊর্ধ্বসীমা নীতি। এখন থেকে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি এবার থেকে সংস্থাগুলিকে কিনে দেবে রাজ্য সরকারই। ”
সিঙ্গেল উইন্ডোর মাধ্যমে মিলবে জমি!
শনিবার, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, “পুরসভা, কর্পোরেশন, পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ দুর্নীতি, দাদাগিরির জায়গা। ১০০ কোটির উপর বিনিয়োগে সিঙ্গেল উইন্ডোর মাধ্যমে মিলবে জমি। ল্যান্ড সিলিং পলিসি পুরো বদলে দেব। আমরা ২০১৩ সালের জমি কেনার নীতিকে মান্যতা দিয়েছি। আমরা চাই না, আরেকটা নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর হোক। যে নীতিতে আমরা BSF-কে সীমান্তে জমি দিচ্ছি, রেলকে জমি কিনে দিচ্ছি, NH-কে জমি কিনে দিচ্ছি, নতুন বিমানবন্দরের জন্য জমি কিনে দিচ্ছি, একইভাবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদেরও সুবিধা দেওয়া হবে। অর্থাৎ জমি নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না।”
আরও পড়ুন: ড্রাইভার ছাড়াই ছুটবে রেক! ইতিহাস গড়ার মুখে কলকাতা মেট্রো
প্রসঙ্গত, বাংলায় ত্রিমুখী কর্মসংস্থান তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েছে বিজেপি সরকার। সরকারি চাকরি, বেসরকারি চাকরি ও ব্যবসার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করবে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “বাংলা আবার বিনিয়োগে ভারত সেরা হবে। আন্তর্জাতিক শিল্পায়ন হবে। ডবল ইঞ্জিনের সুবিধা পাবেন। বেকারত্ব দূর করা আমার দায়িত্ব।” যদিও এই ঘোষণা নিয়ে কটাক্ষের সুর শোনা গেছে বিরোধীদের গলায়। কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় বলেন, শিল্প আমরা চাই কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া নেতারা শিল্পের নতুন কী দিশা দেখাতে পারবেন?










