ইলিশের আকাল, কমেছে দেশীয় মাছও! বাধ্য হয়ে পেশা বদলাচ্ছেন মৎস্যজীবীরা

Published:

Fishermen Bangladesh

অনন্যা সরকার, কলকাতা: বর্ষায় বাজারে ইলিশের (Ilish) চাহিদা বাড়লেও যোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন মৎস্যজীবীরা (Fishermen)। বাংলাদেশেও (Bangladesh) তীব্র সংকট ইলিশের। জানা গেছে উর্ধ্বমুখী জ্বালানির দাম ও মেঘনায় পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ না পাওয়ার কারণে সেখানকার হাইমচর, চাঁদপুর এবং মতলব উত্তর উপজেলার মৎস্য শিকারীদের পড়তে হয়েছে ব্যাপক সমস্যায়। চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন বহু মৎস্যজীবী। মাছ না মেলায় মহাজনদের থেকে নেওয়া ঋণ শোধ করবেন কিভাবে তাই ভেবে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে। পরিবারের মুখে দুটো অন্ন তুলে দেবার জন্য অনেকে তাই ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্য জীবিকার সন্ধানে ভিন জেলায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

বাংলাদেশে জেলেরা পড়েছেন মহা সংকটে

মৎস্যজীবীরা জানাচ্ছেন, শিল্পক্ষেত্রের বিষাক্ত বর্জ্য এসে মিশছে নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে। এছাড়া নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, জলবায়ুর পরিবর্তন ও দূষণ মাছের স্বাভাবিক প্রজননে বাধা দিচ্ছে। ফলে ধীরে ধীরে দেশি মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। একটা সময় মেঘনা নদী ও তার আশপাশের জলাশয় ও খাল বিলে পাওয়া যেত বোয়াল, টেংরা, শোল, পুঁটি, কই, পাবদা, বাতাসি, রুই, কাতলা, চিতল, আড় ও চিংড়ির মতো নানা প্রজাতির দেশি মাছ। কিন্তু নদীর চরিত্র বদল, দূষণ ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট কারণে এইসব মাছগুলি এখন দুর্লভ হয়ে গিয়েছে। ফলে স্থানীয় বাজারেও দেশীয় মাছের সরবরাহ কমায় দাম বেড়েছে। 

চাঁদপুরের বড় স্টেশন মাছঘাট পাইকারি বাজারে গেলেও দেখা যাচ্ছে একই দৃশ্য। ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। চাঁদপুরের ইলিশ বিখ্যাত, তাই দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এখানে মাছ কিনতে আসেন, তবে তারাও এখন হতাশ হয়ে ফিরছেন। মাছ ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন বর্ষার মরশুমে ঘাটে প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ মণ করে ইলিশ আসার কথা, কিন্তু আসছে মাত্র ২০০ – ৩০০ মণ। দামও তাই চড়চড়িয়ে বাড়ছে। 

আগে খাল বিল গুলো থেকে ইচ্ছেমতো মাছ ধরতে পারতেন মৎস্যজীবীরা। ধীরে ধীরে সেগুলিতে ইজারা নিতে শুরু করেছেন ধনী ব্যাবসায়ীরা। ফলে এখান থেকে জেলেরা মাছ ধরার সুযোগ হারাচ্ছেন। ওদিকে নদীতেও মাছের আকাল। ফলে সবদিক থেকেই রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মৎস্যজীবীদের। অনাহারে, কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন বহু দরিদ্র জেলে। 

মেঘনা নদীর ঘাটগুলি এখন ফাঁকা বললেই চলে। মাঝিদের আনাগোনা, জেলেদের ব্যস্ততা, বিশাল বিশাল মাছ ধরার জাল আর চোখেই পড়ছে না। মৎস্যজীবীরা বংশানুক্রমিক পেশা ছেড়ে এখন কেউ রিকশা চালাচ্ছেন, আবার কেউ রাজমিস্ত্রি, কাঠ মিস্ত্রির কাজ ধরেছেন। বাধ্য হয়ে দিন মজুরির পথ বেছে নিতে হচ্ছে অনেককে। আর এখনও যারা মাছ ধরছেন, তাদের আয় কমেছে অনেকটাই। 

আরও পড়ুনঃ জোড়া ঘূর্ণাবর্ত, অক্ষরেখার প্রভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা ৬ জেলায়, আজকের আবহাওয়া

হাইমচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এ.বি.এম. আশরাফুল হক জানিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গায় চর সৃষ্টি ও নদীর দিক পরিবর্তনের ফলে ইলিশের উৎপাদন অনেকটাই কমেছিল, তবে ধীরে ধীরে তা বাড়ছে। এছাড়া দূষণ সহ বিভিন্ন কারণে দেশীয় মাছের স্বাভাবিক বাসস্থানগুলি নষ্ট হচ্ছে, এর ফলেও কমছে উৎপাদন। দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া, পুকুর-জলাশয়ে দেশীয় মাছের চাষ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সহ অন্যান্য সাহায্যও করা হচ্ছে। 

আরওFishIlish
google button