কুণাল ঘোষকে জরিমানা হাইকোর্টের

Published:

Kunal Ghosh

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিপাকে পড়লেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)! হাই কোর্টের (Calcutta High Court) অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করায় দোষী সাব্যস্ত হলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ২০০০ টাকা জরিমানা করল কলকাতা হাই কোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জরিমানা দিতে হবে। বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে না দিতে পারলে তিন দিনের কারাবাস হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের বিশেষ বেঞ্চ।

কুণালের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট অবমাননার অভিযোগ

২০২৫ সালের এপ্রিলে তৎকালীন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে উচ্চ প্রাথমিকে সুপারনিউমেরারি পদে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন কুণাল ঘোষ। সেইসময় বিচারপতি এই মামলায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, কার নির্দেশে এই অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করা হয়েছে তা লিখিত জানাতে হবে। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, বিচারপতির সঙ্গে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের ‘যোগসাজশ’ রয়েছে। এরপরই বিচারপতি বসুর বিরুদ্ধেও উঠেছিল স্লোগান এবং হাইকোর্ট চত্বরেও মারপিট শুরু হয়েছিল। এরপরই আইনজীবীদের নিরাপত্তার স্বার্থে হাইকোর্টের তরফে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছিল, গতকাল সেই মামলাতেই কুণাল ঘোষকে দোষী সাব্যস্ত করা হল।

কুণালকে জরিমানা হাই কোর্টের

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ সোমবার, হাইকোর্টের বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের বিশেষ বেঞ্চে স্বতঃপ্রণোদিত আদালত অবমাননার মামলার শুনানি হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কুণাল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না ঠিকই। তবে কুণালের সংবাদমাধ্যমে বলা মন্তব্য বিচারপতির নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত হেনেছে। এই ধরনের মন্তব্য পুরো বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করতে পারে। বেঞ্চের আরও পর্যবেক্ষণ, কুণাল এক দিকে ক্ষমা চেয়েছেন, আবার অন্য দিকে নিজের বক্তব্যকে সঠিক বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর ক্ষমা প্রকৃত নয় তাই কুণালকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বকেয়া DA নিয়ে ফের ফুঁসে উঠলেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা! সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

স্বতঃপ্রণোদিত আদালত অবমাননার মামলায় কুণাল ঘোষ ছাড়াও উচ্চ প্রাথমিকের রাজু দাস-সহ সাত জন চাকরিপ্রার্থীর নাম ছিল দোষীর তালিকায়। তাঁদের এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। না দিলে তিন দিনের কারাবাসের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, হতাশার কারণে ওই ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে ‘নমনীয়’ অবস্থান নিচ্ছে আদালত। অন্যদিকে এই শাস্তি নিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। ঘটনা নিন্দা করেছি, তাও আমায় জরিমানা করা হয়েছে। আমি বিচারকদের সম্মান করে চলি। আমি আইন মেনে চলি। তিনজন মহামান্য বিচারপতির বেঞ্চ যখন জরিমানা দিয়েছেন, তাঁদের অর্ডার পর্ব এবং আইনিভাবে যা যা করার করব।”