প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ব্যারাকপুরে (Barrackpore) জমা জল এবং যানজটের সমস্যা দীর্ঘদিনের। আর তাতেই নাকাল হতে হচ্ছে স্থানীয় মানুষজনকে। পূর্বতন সরকারের আমলেও একই সমস্যা দেখা গিয়েছিল, কিন্তু বারংবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি। তার উপর একটু বৃষ্টিতেই বারাকপুর শহরের বিভিন্ন জায়গায় কোথাও গোড়ালি সমান জল তো কোথাও হাঁটুর কাছাকাছি। আর এবার সেই সমস্যা নিয়ে ময়দানে নামলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী (Kaustuv Bagchi)।
জমা জলে বেকায়দায় পড়েছে ব্যারাকপুরবাসী
তৃণমূলের আমলে ব্যারাকপুরে জল নিকাশির ক্ষেত্রে অনেক পরিকল্পনার কথা বলা হলেও কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। কেএমডিএর পক্ষ থেকে ওয়্যারলেস মোড় থেকে নোয়াই খাল পর্যন্ত একটি বড়ো নিকাশিনালা তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল। এমনকি তৃণমূলের আমলে একটি DPR-ও তৈরি হয়েছিল। যার খরচ ধরা হয়েছিল ২৪ কোটি ৪ লক্ষ ৭৩ হাজার ৫৫৪ টাকা। কিন্তু এখনও কেএমডিএর এই প্রস্তাব অর্থদপ্তরে অনুমোদনের জন্য পড়ে রয়েছে। তাই এবার সেই ফাইল পাশ করার জন্য অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তকে চিঠি পাঠালেন বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী।
অর্থমন্ত্রীর কাছে বিশেষ আবেদন কৌস্তভের
গতকাল, এক্স হ্যান্ডেলে কৌস্তুভ বাগচী লিখেছিলেন যে, “ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তরের মাননীয় মন্ত্রী শ্রী স্বপন দাশগুপ্তের এক্সিকিউটিভ এসিস্ট্যান্ট সম্মানীয় শ্রী বিশ্বজিৎ দাস মহাশয়ের হাতে অর্থ দপ্তর বিষয়ক একটি দাবি তুলে দিলাম। আমাদের ব্যারাকপুর বিধানসভা এলাকায় জলজমার সমস্যা দীর্ঘদিনের কেএমডিএ এর সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি একটি নতুন খাল যদি আমরা কাটতে পারি ওয়ারলেস মোড় থেকে ব্যারাকপুর বারাসাত রোডের নয়ে খাল অবধি তবেই এই সমস্যার অনেকটা সমাধান হবে। এই সংক্রান্ত ফাইল বর্তমানে অর্থদপ্তরের অন্তর্গত। তাই দ্রুততার সাথে এই বিষয়ে অর্থদপ্তরকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।”
আজ নবান্নে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তরের মাননীয় মন্ত্রী শ্রী স্বপন দাশগুপ্তের এক্সিকিউটিভ এসিস্ট্যান্ট সম্মানীয় শ্রী বিশ্বজিৎ দাস মহাশয়ের হাতে অর্থ দপ্তর বিষয়ক একটি দাবি স্বরুপ তুলে দিলাম। আমাদের ব্যারাকপুর বিধানসভা এলাকায় জলজমার সমস্যা দীর্ঘদিনের কেএমডিএ এর সাথে কথা বলে… pic.twitter.com/owhMOXkOuT
— Koustav Bagchi – Official (@koustavcp) July 13, 2026
আরও পড়ুন: মিড ডে মিলে বরাদ্দ বৃদ্ধি, ডিম মিলবে? জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
নিকাশি ব্যবস্থা প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক আরও জানিয়েছেন যে, “অর্থদপ্তরের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী মাননীয় শ্রী স্বপন দাশগুপ্ত উপস্থিত না থাকায় তার অ্যাসিস্ট্যান্টের হাতে এই দাবি তুলে দিতে বলেছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন দ্রুততার সাথে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” ইতিমধ্যেই ব্যারাকপুর পুরসভা এবং কেএমডিএ’র ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে বিধায়ক ইতিমধ্যেই জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এমনকি এক্ষেত্রেও মমতা সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। কৌস্তুভের স্পষ্ট দাবি, “তৃণমূল আমলে যে কাজ হয়নি, তা এই জল জমা দেখেই পরিষ্কার। একটু বৃষ্টি হলেই এক একটি জায়গায় দীর্ঘ সময় জল দাঁড়িয়ে থাকছে, আশা রাখছি এবার দ্রুত সমাধান হবে।”










