সহেলি মিত্র, কলকাতা: বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। এবার থেকে বিনা প্রেসক্রিপশনে মিলবে মা কাশির ওষুধ। হ্যাঁ নিয়ম বদলে দিয়েছে কেন্দ্রের মোদী সরকার (Central Government)। এখন থেকে সাধারণ মানুষ ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধের দোকান থেকে সিরাপ কিনতে পারবেন না। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া মিলবে না কাশির ওষুধ
বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, কাশির সিরাপসহ সব ধরনের সিরাপ প্রেসক্রিপশন ছাড়া পাওয়া যাবে না। এখন থেকে যেকোনো সিরাপের জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন লাগবে। ‘সিরাপ’ শ্রেণীর ওষুধ এখন থেকে প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করা যাবে না। ১৯৪৫ সালের ড্রাগস রুলস-এর একটি সংশোধনের মাধ্যমে এই পরিবর্তনটি আনা হয়েছে। মন্ত্রকের তরফে জারি করা গত ৯ জুন, ২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, ‘সিডিউল কে’-এর সপ্তম ধারায় থাকা ‘সিরাপস’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

কেন এরকম সিদ্ধান্ত নিল সরকার?
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সরকার কেন এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছে? আসলে ভারত ও অন্যান্য দেশে নিম্নমানের কাশির সিরাপ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে আসার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। মধ্যপ্রদেশে ঘটনাগুলো সামনে আসার পরপরই, গত বছরের নভেম্বরে ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার ড্রাগ কনসালটেটিভ কমিটির (ডিসিসি) একটি বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞ কমিটি কাশির সিরাপের জন্য তফসিল ‘কে’-এর অধীনে প্রদত্ত ছাড় তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। ডিসিসি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রস্তাবটি অনুমোদন করে।
কমিটি এও খতিয়ে দেখেছে যে সিরাপটি তৈরিতে প্রোপিলিন গ্লাইকোল ছাড়া অন্য কোনো সহায়ক উপাদান ব্যবহার করা যায় কিনা, কারণ প্রোপিলিন গ্লাইকোল ইথিলিন গ্লাইকোল এবং ডাইইথিলিন গ্লাইকোলের মতো দূষকের উৎস হিসেবে পরিচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কাশির সিরাপের জন্য প্রেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক করা হলে তা নিশ্চিত করবে যে শিশুরা ডেক্সট্রোমেথরফানের মতো ওষুধ গ্রহণ করবে না।










