বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ছোট থেকেই অভাব যেন আষ্টেপিষ্টে বেঁধে রেখেছিল তাঁদের। সেই বাঁধন ছাড়িয়ে খোলা মনে নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করার কাজ করতে বেশ সমস্যা হতো ত্রিপুরার অস্মিতা দের (Asmita Dey)। হাজারটা বাধা থাকলেও তা অতিক্রম করে 2026 কমনওয়েলথ গেমসে (2026 Commonwealth Games) স্বর্ণপদক জিতলেন জুডোকা অস্মিতা। কঠোর পরিশ্রম, কিছু করে দেখানোর খিদে এবং অদম্য ইচ্ছা শক্তিকে সঙ্গী করেই দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন তিনি। প্রমাণ করে দিলেন, অভাব কিছুতেই সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
অস্মিতার অতীত জানলে গর্ব হবে
কঠিন পরিশ্রম এবং অধ্যাবসায়ের মধ্যে দিয়ে সাফল্য অর্জনের এক অনন্য উদাহরণ অস্মিতা দে। গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত এ বছরের কমনওয়েলথ গেমসে জুডো কম্পিটিশনে স্বর্ণপদক জেতার সাথে সাথে ভারতের জুডো ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেছেন অস্মিতা। মেয়ের এমন সাফল্যে আনন্দে আত্মহারা পরিবার। তবে যেই অস্মিতাকে নিয়ে এত আলোচনা তাঁর অতীত জানে কজন?
দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বেলোনিয়ার এক পরিবারে জন্ম হয়েছিল অস্মিতা দের। ছোট থেকেই পরিবারে অভাব বিরাজ করত। বাবা গণেশ দে ছিলেন সাইকেলের মেকানিক। অভাবের মধ্যেও সম্বল বলতে ছিল শুধু পরিশ্রম, প্রবল ইচ্ছা শক্তি এবং খেলাধুলার প্রতি অগাধ ভালবাসা। আর সেটাকে সঙ্গে নিয়েই নিজের লক্ষ্যে একটু একটু করে এগিয়ে গিয়েছেন অস্মিতা।
আসলেই জুডো এমন একটি খেলা যেখানে শারীরিক শক্তির সাথে সাথে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও ব্যাপক কাজ করে। সেটা ছোট থেকেই নিতে পারতেন অস্মিতা। বিভিন্ন মঞ্চে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রশিক্ষকদের নজর কেড়ে নিয়েছিলেন তিনি। ত্রিপুরার মেয়ে প্রথমবারের মতো মহিলাদের 48 কেজির বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করেন। এরপর একে একে রাজ্য স্তর সহ জাতীয় স্তরে খেলতে গিয়েছিলেন তিনি। নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে ভারতীয় জুডো দলে সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন অস্মিতা।
অবশ্যই পড়ুন: ভারতের বিরুদ্ধেই হলুদ জার্সি গায়ে শেষ ম্যাচ, কলকাতায় ফেয়ারওয়েল নেইমারের!
জাতীয় দলের সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে মেলে ধরার বড় সুযোগ আসে দেশের জুডো প্রতিভার হাতে। এরপর থেকে এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক জেতা থেকে শুরু করে এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক থেকে শুরু করে জুনিয়র এশিয়া কাপের সোনা জয় সহ একাধিক পদক জিতেছেন তিনি। 2025 সালের ডিসেম্বর মাসে বাবাকে হারানোর পর যেন নিজের লক্ষ্য পূরণের জন্য আরও বেশি উদ্যত হয়ে পড়েছিলেন অস্মিতা। আর সেই পরিশ্রমের ফল মিলল 2026 কমনওয়েলথ গেমসেই।










