সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার জল না পেয়ে শুকিয়ে মরবে পাকিস্তান (Pakistan)। সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত হওয়ার পর থেকেই ভারত আর সন্ত্রাসের দেশটির মধ্যে জল নিয়ে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। আর এবার সেই উত্তেজনার মাঝে নতুন মাত্রা যোগ করল ভারতের কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য। ভারতের (India) তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এরকম একাধিক প্রকল্পে কাজ চলছে যাতে ভবিষ্যতে পাকিস্তানের দিকে এক ফোঁটাও জল না যায়। আর এই মন্তব্য ঘিরে পাকিস্তানের অন্দরমহলে শুরু হয়েছে তীব্র উদ্বেগ।
কী বললেন ভারতের জলমন্ত্রী?
কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিল জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে ভারত এখন এরকম পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে জোর দিচ্ছে, যাতে দেশের নদীর জল দেশের মধ্যেই সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করা যায়। মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী কয়েক বছরে পাকিস্তানে যাওয়া নদীর জল আটকে দেওয়ার মতো পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করা হবে। তাঁর এই মন্তব্যের পর থেকেই দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের কৃষি এবং পানীয় জলের বৃহৎ অংশ নির্ভর করে সিন্ধু অববাহিকা নদীগুলির উপর। বিশেষ করে সিন্ধু, ঝিলম, রাবি, চেনাব, বিয়াস ইত্যাদি। নদীগুলির জল পাকিস্তানের লক্ষ লক্ষ কৃষক এবং সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবনের সঙ্গে জড়িত। বিশেষজ্ঞদের মতে, জল প্রবাহে বড়সড় পরিবর্তন হলে পাকিস্তানের কৃষি থেকে শুরু করে খাদ্য উৎপাদন এবং অর্থনীতিতে বিরাট প্রভাব পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: গোটা IPL-এ মেলেনি দেখা, হঠাৎ নতুন T20 লিগে হাজির ধোনি
এদিকে পাকিস্তান আগেই জানিয়ে দিয়েছে যে, নদীর জলপ্রবাহ পরিবর্তনে যে কোনও পদক্ষেপকেই তারা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি হিসেবেই দেখবে। তাদের দাবি, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি একতরফাভাবে বাতিল করে দেওয়া সম্ভব নয়। এই ইস্যুতে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতের বিরুদ্ধে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এদিকে ভারত ইতিমধ্যে নিজেদের অংশের নদীর জল পুরোপুরি কাজে লাগাতে একাধিক প্রকল্পের গতি বাড়িয়েছে। যেমন ভাকড়া বাঁধ, পং বাঁধ, পাণ্ডোহ বাঁধ, রঞ্জিত সাগর বাঁধ, ন্দিরা গান্ধী ক্যানাল প্রকল্প ইত্যাদি। এছাড়াও বিয়াস-শতদ্রু লিঙ্ক এবং অন্যান্য জল প্রকল্পের মাধ্যমেও নদীর জল সংরক্ষণ আর ব্যবহার বাড়ানোর কাজ চলছে।










