দুর্গাপূজা ২০২৬ কত তারিখে? দেখুন মহালয়া থেকে দশমী অবধি দিনক্ষণ, আচারবিধি

Published:

Durga Puja 2026

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে দূর্গাপূজা কত তারিখে পড়ছে? দুর্গাপূজা ২০২৬ (Durga Puja 2026) এর দিনক্ষণ এবং সময়সূচি কী রয়েছে? আসলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। কিন্তু তার মধ্যে দুর্গাপূজা সবথেকে অন্যতম। নতুন জামাকাপড় কেনা বলুন কিংবা বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, বাঙালির সবকিছু ঘিরেই থাকে এই দুর্গাপূজা। তবে এ বছর দুর্গাপূজার মহালয়া থেকে দশমী পর্যন্ত সম্পূর্ণ সময়সূচি জানতে হলে অবশ্যই পড়ুন প্রতিবেদনটি।

দুর্গাপূজা ২০২৬ দিনক্ষণ | Durga Puja 2026 Date |

এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে মহালয়া এবং দুর্গাপূজার নির্ঘন্ট নিচে আলোচনা করা হল

  • মহালয়া পড়ছে আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার।
  • মহাষষ্ঠী পালিত হবে আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার।
  • মহাসপ্তমী দু’দিন পালিত হবে। আগামী ১৭ এবং ১৮ অক্টোবর, শনি ও রবিবার।
  • মহাঅষ্টমী পালিত হবে ১৯ অক্টোবর সোমবার।
  • মহানবমী পালিত হবে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার।
  • বিজয়া দশমী পালিত হবে আগামী ২১ অক্টোবর বুধবার।

বিশেষ করে এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে দূর্গাপূজার আনন্দ আরও দ্বিগুণ করার জন্য দুই দিন ধরে সপ্তমী পালিত হবে। ফলত, এ বছর একটি বাড়তি দিন পাওয়া যাচ্ছে দুর্গাপূজায়। তাই আনন্দ যে আরও দ্বিগুণ হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও এবছর কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা পালিত হবে আগামী ২৫ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার।

দুর্গাপূজা ২০২৬

তিথি ইংরাজি তারিখ বাংলা তারিখ
মহালয়া ১০ অক্টোবর ২৩ আশ্বিন
মহাষষ্ঠী ১৬ অক্টোবর ২৯ আশ্বিন
মহাসপ্তমী ১৭-১৮ অক্টোবর ৩০-৩১ আশ্বিন
মহাঅষ্টমী ১৯ অক্টোবর ১ কার্তিক
মহানবমী ২০ অক্টোবর ২ কার্তিক
বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর ৩ কার্তিক

২০২৬-এ দেবীর আগমন ও গমন

মা দুর্গা কীসে আসছে এবং কীসে যাচ্ছে তার উপর বাঙালির অনেক কিছুই নির্ভর করে। জানা গিয়েছে, এ বছর দেবীর আগমন হবে গজ বা হাতিতে। দেবীর আগমন হাতিতে হলে মর্তলোক সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। এমনকি অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টির মতো ঘটনাও ঘটে না। ঠিক যতটা সম্ভব ততটাই হয়। পাশাপাশি এবছর দেবীর গমন হবে নৌকায়। তবে নৌকায় গমন করলে তা অশুভ বলেই মনে করা হয়। কারণ, প্রবল বন্যা বা খরা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

দুর্গাপূজার নিয়মকানুন

দুর্গাপূজা বাঙালির ঐতিহ্য। এর নিয়মকানুন আর আলাদা করে বলা লাগে না। তবে ষষ্ঠীর দিন বোধন, সপ্তমীতে নবপত্রিকার প্রবেশ, অষ্টমীতে অঞ্জলি ও সন্ধিপুজো, নবমীতে হোম এবং ভগ্নিবেদন এবং দশমীতে সিঁদুর খেলা আর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমেই প্রতিবছর দুর্গাপূজায় মত্ত হয় আপামর বাঙালি। আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের এই পাঁচ দিনের পূজা বিশেষ আচার এবং শুদ্ধাচার মেনেই করা হয়।

দুর্গাপূজার সাধারণ নিয়ম এবং শুদ্ধাচার

দুর্গাপূজার জন্য সবসময় পুজোর স্থান ও ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং পবিত্র রাখা বাঞ্ছনীয়। তার পাশাপাশি পূজার দিনগুলিতে নিরামিষ খাবার খাওয়া এবং বাড়িতে আমিষ, পেঁয়াজ, রসুন ব্যবহার না করাই সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া দুর্গাপূজার দিনগুলিতে বাড়িতে শান্ত স্বভাব বজায় রাখতে হয় এবং ঝগড়া বা বিবাদ এড়িয়ে চলতে হয়।

দুর্গাপূজার আধ্যাত্মিক এবং পৌরাণিক তাৎপর্য

দুর্গাপূজার মূল মাহাত্ম্য হল অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয় করা। খারাপের বিরুদ্ধে ভালোকে জয়, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমাজের শান্তি এবং একতা প্রতিষ্ঠার জন্য পূজিত হয় মা দুর্গা। তবে দুর্গাপূজার আধ্যাত্মিক এবং পৌরাণিক কিছু তাৎপর্য রয়েছে। যেমন—

  • দেবী দুর্গা এদিন মহিষাসুরকে বধ করে পৃথিবীতে শান্তি ফিরিয়ে এনেছিলেন।
  • দেবী হলেন শক্তির উৎস যিনি কিনা ভক্তের ভেতরের অহংকার এবং অজ্ঞতা দূর করেন।
  • এই পূজা আমাদের মনে সাহস এবং শক্তির সঠিক সন্ধান জাগিয়ে তোলে।

দুর্গাপূজার সামাজিক এবং সংস্কৃতিক গুরুত্ব

দুর্গাপূজা যে শুধুমাত্র বাঙালিদের উৎসব এমনটা নয়, বরং জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে এই উৎসবে যোগদান করেন। দুর্গাপূজার সময় নতুন জামাকাপড় পরা, পূজা মন্ডপে ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখা, এবং একসঙ্গে সময় কাটানো সবার মনে আলাদা আনন্দের জন্ম দেয়। আর এটি বাঙালি সংস্কৃতির সবথেকে বড় এবং সুন্দর ঐতিহ্য বলেই মনে করা হয়।

আরও পড়ুন: NEET ক্র্যাক ঠেলাগাড়িতে সবজি বিক্রি করা মেয়ের, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন করবেন পূরণ

কলকাতার বিশেষ দুর্গাপূজা

দুর্গাপূজার জন্য কলকাতা সবসময়ই জনপ্রিয়। তবে কলকাতার বেশ কিছু প্যান্ডেল রয়েছে, যেগুলিতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ দুর্গাপূজার সময় ভিড় জমান। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বাগবাজার সর্বজনীন, শোভাবাজার রাজবাড়ি, কলেজ স্কয়ার, সুরুচি সংঘ, দমদম তরুণ সংঘ, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, একডালিয়া এভারগ্রিন, মুদিয়ালী ক্লাব ও সিংহি পার্ক, কুমোরটুলি পার্ক, আহিরিটোলা সার্বজনীন, মোহাম্মদ আলী পার্ক দুর্গাপূজা, শিকদার বাগান দুর্গাপূজা, শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব, মানিকতলা চালতাবাগান দুর্গাপূজা, বাদামতলা দুর্গাপূজা ইত্যাদি।