সহেলি মিত্র, কলকাতা: দিল্লির আদলে এবার বাংলাতেও ছুটবে র্যাপিড রেল (Bengal Rapid Rail)? এই নিয়ে বাংলা থেকে সোজা চিঠি গেল কেন্দ্রের কাছে। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রীর কাছে পশ্চিমবঙ্গে RRTS – র্যাপিড রেল ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম চালু করার প্রসঙ্গে সম্পর্কে চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে দক্ষিণবঙ্গের জন্য একটি আঞ্চলিক র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (RRTS) নেটওয়ার্কের প্রস্তাব বিবেচনা করার অনুরোধ করা হয়েছে।
এবার বাংলাতেও চলবে র্যাপিড রেল?
সাংসদের পাঠানো চিঠিতে কলকাতার সঙ্গে কল্যাণী–কৃষ্ণনগর–মায়াপুর, দুর্গাপুর–আসানসোল, ডায়মন্ড হারবার–হলদিয়া এবং খড়্গপুর–মেদিনীপুরকে সংযুক্ত করার প্রস্তাব। সাংসদ মন্ত্রীর কাছে একটি বিস্তৃত সমীক্ষা এবং বিস্তারিত সম্ভাব্যতার রিপোর্টও জমা দিয়েছেন। চিঠি অনুযায়ী, ‘দক্ষিণবঙ্গের জন্য একটি পশ্চিমবঙ্গ রিজিওনাল র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (WB-RRTS)-এর একটি গবেষণাভিত্তিক প্রাথমিক সম্ভাব্যতা প্রস্তাবের দিকে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এই প্রস্তাবটি কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রক এবং ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।’
চিঠিতে সাংসদ আরও লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের নগরভিত্তিক ভূগোল মূলত কলকাতাকেন্দ্রিক। একইসঙ্গে দুর্গাপুর, আসানসোল, খড়্গপুর, কৃষ্ণনগর এবং হলদিয়ার মতো শহরগুলি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, শিক্ষা, বন্দর ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। এই শহরগুলির মধ্যে যোগাযোগ বর্তমানে প্রচলিত রেল ও সড়কপথের উপর নির্ভরশীল, যা উচ্চ-ঘনত্বের যাত্রী পরিবহণের জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত নয়। NCRTC-এর নমো ভারত করিডরের আদলে একটি RRTS নেটওয়ার্ক মেট্রোর মতো উচ্চগতির আঞ্চলিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করতে পারে।’
প্রস্তাবিত লাইনগুলো কী কী?
- ১)কলকাতা – কল্যাণী – কৃষ্ণনগর – মায়াপুর (১৩৫ কিমি)
- ২) কলকাতা – বর্ধমান – দুর্গাপুর – আসানসোল (২৩২ কিমি)
- ৩) কলকাতা – ফলতা – ডায়মন্ড হারবার – হলদিয়া – নন্দীগ্রাম (১০২ কিমি)
- ৪) কলকাতা – সাঁতরাগাছি- কোলাঘাট – খড়গপুর – মেদিনীপুর (১৩৫ কিমি)
আরও পড়ুনঃ ৮ লক্ষ কর্মী ও পেনশন প্রাপকদের জন্য সুখবর, ৮% ডিএ বাড়াল রাজ্য সরকার
এর পাশাপাশি দুর্গাপুর ও আসানসোলের জন্য পৃথক মেট্রো ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য লিখেছেন, ‘প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বিদ্যমান মহাসড়ক ও রেল করিডর বরাবর RRTS করিডর তৈরি করে জমি অধিগ্রহণের পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি NCRTC-এর আদলে একটি স্পেশাল পারপাস ভেহিকল (SPV)—West Bengal Rapid Transit Corporation (WBRTC) গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ভারত সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যৌথ মালিকানা থাকবে। আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, মন্ত্রক যেন এই প্রস্তাবটি পরীক্ষা করে এবং উপযুক্ত মনে হলে ইঞ্জিনিয়ারিং, যাত্রী চাহিদার পূর্বাভাস এবং আর্থিক বিশ্লেষণ-সহ একটি বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার নির্দেশ দেয়। এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে যারা রিপোর্ট লিখবেন তাঁদের সঙ্গে আলোচনার ব্যবস্থা করতে আমি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’










