সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আর্থিক অপরাধ দমনে আগের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ফেলল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate)। সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা মোট ৮১,৪২২ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। তবে একইসঙ্গে দেখা গিয়েছে আগের বছরের তুলনায় গ্রেফতারের হার প্রায় ২৭ শতাংশ কমেছে। সংস্থার দাবি, গণ গ্রেফতারির বদলে এখন তারা প্রমাণ ভিত্তিক নির্দিষ্ট তদন্তের ভিত্তিতেই বেশি জোর দিচ্ছে।
বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক বছরে ইডির অভিযানের চিত্রটা ছিল একটু আলাদা। মোট ৮১ হাজার ৪২২ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা, যা আগের বছরে ৩০ হাজার ৩৬ কোটি টাকার তুলনায় ১৭১% বেশি। এবছর দেশজুড়ে মোট ২৮৯২টি তল্লাশি চালানো হয়েছে। আর গত বছর ১৫৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখ না করলেই নয়, ২০২৪-২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ২১৪। আর তার আগের বছর ছিল ২৭২। ইডির কর্মকর্তাদের মতে, ঢালাও গ্রেফতারের থেকে এখন অপরাধের তথ্য আর নথি বাজেয়াপ্তকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে আগে যেখানে ইডির একটি মামলা শেষ হতে তিন থেকে চার বছর সময় লেগে যেত, এখন সেই সময় অনেকটাই কমে গিয়েছে। বর্তমানে গড়ে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করতে পারছে সংস্থা। আর গতবার ইডি মোট ৮১২টি চার্জশিট জমা দিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
আরও পড়ুন: গণনায় গরমিল হলেই চাকরি যেতে পারে কর্মীদের! ঘোষণা কমিশনের
এছাড়াও তদন্তের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের হারানো টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিরাট পদক্ষেপ নিচ্ছে সংস্থা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বিভিন্ন আর্থিক জালিয়াতির শিকার হওয়া মানুষদের হাতে আনুমানিক ১৫ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আগের বছর এই পরিমাণ ছিল আরও বেশি। প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। উল্লেখ্য, আধুনিক অপরাধের সঙ্গে তাল মেলাতে ইডি এখন ডিজিটাল নথি আর ক্রিপ্টো কারেন্সি লেনদেনের উপরে নজর দিচ্ছে। এছাড়াও বিদেশি সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে থাকা সম্পত্তিগুলোকে বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে ৩৫৩টি মামলার তদন্ত বিদেশের মাটিতে চলছে। যার মধ্যে সবথেকে বেশি মামলা রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।










