অনন্যা সরকার, ভোপাল: প্রতিটি স্টেশনকে ঘিরেই নানান জনশ্রুতি থাকে। কোনটা মজার, আবার কোনোটা ভয় ধরানো। মধ্যপ্রদেশের ভোপালের নিশাতপুরা স্টেশনে (Nishatpura Station) দিনের বেলাটা অন্যান্য স্টেশনের মতোই স্বাভাবিক, কিন্তু রাতে এর রূপ পাল্টে যায়। এখনও কোনো ট্রেন থামে না নিশাতপুরা স্টেশনে, কোনো রেল কর্মীই সেখানে কাজ করতে চান না, আর কোনো যাত্রীও সেখানে আসেন না। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভোপালে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই নতুন স্টেশন এখন ভুতুড়ে গল্পের (Ghost Stories) আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে।
ভূতুড়ে নিশাতপুরা স্টেশনে রাতে থামে না কেনো ট্রেন
২০২৩ সালের জুন মাসে যাত্রীদের জন্য তৈরি হওয়া প্ল্যাটফর্ম, বসার জায়গা, আলো – সবই ঠিক আছে। কিন্তু নিশাতপুরা স্টেশনটি একটি অন্য বিষয় নিয়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। এলাকায় বাসিন্দা প্রেম প্রকাশ বলেন, স্টেশনটি খুব সুন্দরভাবেই তৈরি করা হয়েছে, কিন্তু রাতে সেখানে যাওয়া ভয়ানক। এই স্টেশন এখন ভোপালের নতুন ভুতুড়ে ঠিকানা হয়ে উঠেছে। নিশাতপুরা স্টেশন এমন একটি স্থান, যেখানে পরিপাটি পরিকাঠামোর সাথে মিশে গেছে অশরীরীর পদচারণার শব্দ।
তবে বাস্তবে বিষয়টা ততটাও ভীতিপ্রদ নয়। রাতের বেলা অলৌকিক অভিজ্ঞতার সন্ধানে আসা অনেক রোমাঞ্চপ্রেমী দর্শনার্থীদের দেখা মেলে এই স্টেশন। রেলের কর্মকর্তারাও নিশাতপুরা স্টেশনের এই অদ্ভুত পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন। ভোপাল ডিভিশনের এক কর্মচারীর কথায়, যখন কোনো ট্রেন, কর্মী বা যাত্রী থাকে না, তখন রাতে এই জায়গাটাকে ভুতুড়ে মনে হয়।
প্রতি রাতে নিশাতপুরায় শ্মশানের নীরবতা নেমে আসে। ট্রেনগুলো দ্রুতগতিতে পাশ দিয়ে চলে যায়, আর যাত্রীরা দূরে থাকেন। রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে কারণ একটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত স্টেশন কেন নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর চালু হচ্ছে না, তা রেল কর্তৃপক্ষের কেউ জানেন বলে মনে হচ্ছে না। এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই। পরিদর্শন, অনুমোদন, নিরাপত্তার ছাড়পত্র, কর্মী নিয়োগ এবং পরিচালন নির্দেশনার মতো নিয়মিত পদক্ষেপগুলো ঠিক যেন গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই থমকে গেছে বলে মনে হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ বিনা হিটারেও উষ্ণ ঘর, জলবিহীন টয়লেট! লাদাখে সোনম ওয়াংচুকের অভিনব অট্টালিকা
যাত্রী এবং আশপাশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি প্ল্যাটফর্ম অব্যবহৃত হয়ে পড়ে থাকায় উন্নত সংযোগ ব্যবস্থার আকর্ষণীয় সুযোগ হাতছাড়া করছে। রেলওয়ের জন্যও এটা ভালো খবর নয়। ৬ কোটি টাকায় তৈরি এই স্টেশন যাত্রীদের আহ্বান করার বদলে, ভুতুড়ে গল্পের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠছে। এই স্টেশন চালু হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা জানতে চাইলে ভোপাল বিভাগের জনসংযোগ আধিকারিক নওয়াল আগরওয়াল জানান, রেল সব প্রস্তুতিই সম্পন্ন করেছে। স্টেশনটি শীঘ্রই চালু হবে। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত নিশাতপুরাকে ঘিরে ভুতুড়ে গল্পের জাল বোনা থামছে না।










