সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে বাংলার। তৃণমূলের অপশাসন বিনাশ করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তবে এবার উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) পুলিশের এক বড় অভিযানে গ্রেফতার করা হল ১৬০০ কোটি টাকার হাওয়ালা কেলেঙ্কারির মাস্টারমাইন্ড মহফুজকে (Hawala Mastermind Mahfooz)। তৃণমূল আশ্রিত এই দুষ্কৃতীকে গত বুধবার রাতে কানপুর থেকে পাকড়াও করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, খেটে খাওয়া গরিব মানুষদের পায়ের রক্ত মাথায় ফেলে উপার্জন করা কোটি কোটি টাকা দিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে লেনদেন চালাতে সে।
কীভাবে কাজ করতে এই চক্র?
আসলে মহফুজের কাজের ধরন ছিল বেশ সুসংগঠিত। পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পেরেছে যে, সে মূলত গরিব রিকশাচালক এবং ঠেলাওয়ালাদের টার্গেট করত। লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাঁদের কাছ থেকে আধার কার্ড এবং প্যান কার্ডের মতো জরুরী নথি হাতিয়ে নিত। তারপর ব্যাঙ্ক কর্মীদের একাংশের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই নথি ব্যবহার করে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলা হত। আর সেই সমস্ত অ্যাকাউন্ট থেকেই চলত কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কানপুরে ২৪ লক্ষ টাকা লুটের একটি ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই বিশাল হাওয়ালা নেটওয়ার্কের হদিশ পেয়েছিল। এই ঘটনায় এর আগে বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছিল। কিন্তু মূল চক্রী মহফুজ পলাতক ছিল। অবশেষে কানপুর পুলিশের ঘেরাটপে পড়ে সে।
তদন্তকারী আধিকারিকের দাবি, মহফুজ দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতায় তাঁর নিজের শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপন করে ছিল। বেশ কয়েকটি সুত্র মারফত খবর, তাঁর শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। যার ফলে সে সেখানে এতদিন নিরাপদ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি বাংলায় সরকার পরিবর্তনের খবর আর রাজনৈতিক পালাবদল হতেই মহফুজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করে। তাঁর মনে হয় যে, কলকাতায় তাঁর উপর পুলিশ নজরদারি বাড়াতে পারে। সেই ভয়েই তড়িঘড়ি সে কানপুরে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সেখানে ওঁত পেতে থাকা পুলিশ তাঁকে পাকড়াও করে।
আরও পড়ুন: হার মানবে ব্রহ্মসও, মুহূর্তে ছাই হবে গোটা পাকিস্তান! আসছে ১০,০০০ কিমি পাল্লার মিসাইল
এ বিষয়ে কানপুরের এসিপি অভিষেক পান্ডে জানিয়েছেন, মহফুজকে জেরা করে তাঁর এই বিশাল জালিয়াতি চক্রের বাকি সদস্যদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে জালিয়াতির পিছনে আর কোনও চক্র জড়িত রয়েছে কিনা, আর কোন কোন ব্যাঙ্কের কর্মী জড়িত তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর মহফুজের স্ত্রী, পুত্র এবং শ্যালকের খোজ চালাচ্ছে পুলিশ। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে এই অপরাধের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।










