রাজ্যের ১ লক্ষ গরীব মানুষকে ফ্রিতে ২BHK ফ্ল্যাট দিচ্ছে সরকার, লাগবে এই ডকুমেন্টগুলি

Published:

2BHK Housing Scheme

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সাধারণ নিম্নবিত্ত মানুষের মাথার উপর পাকা ছাদ তৈরি করার জন্য বিরাট পদক্ষেপ নিল সরকার। রাজ্যের জনপ্রিয় ২BHK হাউসিং স্কিমে (2BHK Housing Scheme) নতুন করে উপভোক্তাদের হাতে বাড়ির মালিকানা নতুন করে তুলে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলোর জন্য ১ লক্ষ নতুন দুই কামরার বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। আর এর মূল লক্ষ হল, যে সমস্ত পরিবারের নিজের পাকা বাড়ি নেই তাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দুটি শোবার ঘর এবং আধুনিক আবাসন প্রদান করা।

রাজ্য সরকারের মানবিক উদ্যোগ ২BHK হাউসিং স্কিম

আসলে তেলেঙ্গানা সরকারের এই আবাসন প্রকল্পটি বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হল, বাড়ি নির্মাণের জন্য উপভোক্তাদের কোনও অর্থ দিতে হয় না। পুরো নির্মাণ ব্যয় বহন করে রাজ্য সরকার। এমনকি প্রতিটি বাড়িতে শোবার ঘর, একটি বসার ঘর, একটি রান্নাঘর এবং দুটি শৌচাগার থাকে। গ্রামীণ এবং শহর দুই এলাকাতেই এই প্রকল্প চালু রয়েছে। কিন্তু হায়দ্রাবাদের মতো শহরে জমির অভাব থাকায় বহুতল আবাসন নির্মাণের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের ঘর দেওয়া হচ্ছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নির্বাচিত উপভোক্তদের হাতে বাড়ির বরাদ্দে তুলে দেওয়া হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী মহম্মদ আজহারউদ্দিন। তিনি জানিয়েছিলেন, সমাজের আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এবং বিশেষভাবে সক্ষম মানুষের আবাসনের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া সরকারের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে প্রকৃত ও যোগ্য পরিবারগুলিকে অগ্রধিকার দিয়ে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন?

এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য অবশ্যই কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। সেগুলি হল—

  • আবেদনকারীকে তেলেঙ্গানার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • পরিবারটিকে দরিদ্র সীমার অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। অর্থাৎ বিপিএল রেশন কার্ড থাকতে হবে।
  • আবেদনকারীর নিজের স্থায়ী পাকা বাড়ি থাকা চলবে না।
  • নির্ধারিত আয়ের সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
  • বিশেষ করে বিধবা মহিলা, প্রবীণ নাগরিক, তপশিলি জাতি, তপশিলি উপজাতি, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি, অন্যান্য আর্থিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পায়।

আরও পড়ুন: ১৭ জুলাই উদ্বোধন দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের, জানুন ভাড়া ও গতিবেগ

তবে এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য আধার কার্ড, বাসস্থানের প্রমাণপত্র, আয়ের শংসাপত্র, রেশন কার্ড, জাতিগত শংসাপত্র, প্রতিবন্ধী শংসাপত্র, স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিতে হয় বলেই জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।