দ্রুত গতিতে গলছে বরফ স্তর, কমছে হিমালয়ের উচ্চতা! নেমে আসতে পারে বড় সংকট

Published:

Huge snow melted in Himalayas

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: কার্যত ঝড়ের গতিতে কমছে হিমালয়ের (Himalayas) উচ্চতা! এর নেপথ্যে রয়েছে বরফের ব্যাপক গলন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এশিয়ার ওয়াটার টাওয়ার হিসেবে পরিচিত হিমালয়ে বরফের স্তর কিছুতেই জমতে পারছে না। বরং দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে দিন দিন কমে আসছে হিমালয়ের উচ্চতা। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিগত 23 বছরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে মায়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত হিমালয় পর্বতমালার উচ্চতা সবচেয়ে বেশি কমেছে। অর্থাৎ পর্বতমালায় বরফের স্তর তৈরির হার সর্বনিম্ন। এই তথ্য দিচ্ছে কাঠমান্ডুর গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট।

হিমালয়ে বরফের স্তর না জামায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে ভারতের!

কমবেশি সকলেই জানেন, হিমালয়ের যে বরফ তা গোলে যে জল তৈরি হয় তা দিয়েই হিন্দুকুশ হিমালয়ের 12টি নদী এবং অববাহিকা পুষ্ট। সাধারণত গোটা বছরে এই নদীগুলির জল দিয়েই ভারতের চাষের জমিতে সেচের কাজ হয়। এছাড়াও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় এই জল। এখানেই শেষ নয়, হিন্দুকুশ হিমালয়ের নদী এবং অববাহিকাগুলির জল ব্যবহৃত হয় পানীয় জল হিসেবেও।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, হিমালয় পর্বতমালায় বরফের স্তর জমতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদীগুলি। বরফের স্তর ক্রমশ শুকিয়ে যাওয়ায় নদীগুলিতে জলের আধিক্য কমবে। এরফলে ক্ষতি হবে দেশের চাষাবাদ থেকে শুরু করে জলবিদ্যুৎ সহ সব ক্ষেত্রেই। মনে করা হচ্ছে, হিমালয়ের বরফের স্তর দ্রুত গলে যাওয়ার কারণে কিছুটা কম হলেও প্রভাবিত হতে পারে, গঙ্গা অববাহিকা অঞ্চল।

অবশ্যই পড়ুন: গরমে উপচে পড়ছে ভিড়, শিয়ালদা এসি লোকালের জনপ্রিয়তা টেক্কা দিচ্ছে মুম্বাইকেও

সংকটে অসংখ্য জীবন!

কাঠমান্ডুর গবেষণা সংস্থার রিপোর্ট প্রকাশে আসতেই চমকে গিয়েছেন দেশের বিশেষজ্ঞরা। রিপোর্ট অনুযায়ী, হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে বরফের স্তর ক্রমশ গলে যাওয়ায় হিমালয়ের উচ্চতা যেমন কমছে তেমনই এর কারণে বিগত চার বছর ধরে হিমালয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম তুষারপাত হয়েছে। পরিবেশবিদ থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ মহলের প্রত্যেকেরই দাবি, হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের উচ্চতা এত দ্রুততার সাথে কমতে থাকলে ভৌগোলিক দিক থেকে তা যেমন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে তেমনই জীবন জীবিকা নির্বাহের দিক থেকেও বাড়বে বিপদ। হিমালয়ের বরফের স্তর ক্রমশ শুকিয়ে যাওয়ার কারণে সংকটের মুখে কমবেশি 200 কোটি প্রাণ! বলছেন বিশেষজ্ঞরাই।