সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে এবার পরিবর্তনের হাওয়া। ২০২৫ সালের ভারত রেকর্ড পরিমাণ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র (Indian Solar Power Plant) স্থাপন করেছে, যা কিনা শক্তি উৎপাদনের প্রথাগত রীতিকেই বদলে দিচ্ছে। এম্বারের একটি বার্ষিক রিপোর্ট (Ember Report) অনুযায়ী, গত বছর ভারত ৩৮ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা যোগ করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫৪ শতাংশ বেশি। আর এই প্রথম সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের দৌড়ে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে গিয়েছে।
দাপট কমছে জীবাশ্ম জ্বালানির
রিপোর্ট বলছে, ২০০০ সালের পর এই নিয়ে মাত্র তৃতীয়বার ভারতের জীবাশ্ম জ্বালানি বা কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি অর্থাৎ সৌর, বায়ু বা জলবিদ্যুৎ থেকে ৯৮ টেরাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে, যা বিগত বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। আর মজার বিষয় হল—ভারতের বিদ্যুৎ চাহিদা যে হারে বাড়ছে তার দ্বিগুণ হারে এনার্জি বা সবুজ বিদ্যুতের উৎপাদন বেড়েছে।
এদিকে সৌর বিদ্যুৎ এখন ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রধান উৎস হিসেবেই দাঁড়াচ্ছে। এমনকি জলবিদ্যুৎকেও পেছনে ফেলেছে এই খাত। ২০২৫ সালে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর বিশ্বের মধ্যে সৌরশক্তি বৃদ্ধিতে ভারত এখন তৃতীয় স্থানে রয়েছে। পাশাপাশি ভারতের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৯.৪ শতাংশ এখন মেটানো হচ্ছে সৌরশক্তি দিয়েই। এছাড়াও বায়ুশক্তি ও সৌরশক্তি দিয়ে এই হার ১৪ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে।
বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনেও রেকর্ড ভারতের
এদিকে সৌরশক্তির পাশাপাশি বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনেও ভারত বিরাট সাফল্য পেয়েছে। ২০২৫ সালে বায়ুবিদ্যুৎ থেকে আনুমানিক ২২ টেরাওয়াট ঘণ্টা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। যার ফলে বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের নিরিখে ভারত এখন বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয় দফায় কেমন ফল করবে বিজেপি? জানিয়ে দিলেন অমিত শাহ
উল্লেখ্য, এম্বারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আদিত্য লোল্লা জানিয়েছেন যে, সৌরবিদ্যুৎ-ই এখন ভারতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি। আর এটি ভারতের ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সরবরাহের পথকে আরও সুগম করবে। তবে এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখার জন্য গ্রিড পরিকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যাটারি স্টোরেজ বা বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আরও বিনিয়োগের প্রয়োজন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। এখন দেখার, কেন্দ্র সরকার এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়।










