বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বর্তমান ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়ে স্মার্টফোন থেকে শুরু করে স্মার্ট ইলেকট্রিক গাড়ি, সবেতেই প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয় চিপ। এবার সেই চিপের বাজারেই রাজত্ব করতে চলেছে ভারত (India Global Semiconductor)! 2035 সালের মধ্যে ভারত কীভাবে গোটা বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর খাতের রাজা হয়ে উঠবে, তা নিয়েই এবার রিপোর্ট পেশ করে সকলকে চমকে দিল নীতি আয়োগ। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতকে শুধুমাত্র চিপের বাজার তৈরি করলে হবে না বরং 150 বিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী অর্থ বিনিয়োগ করে চিপ তৈরিতে গোটা বিশ্বের নেতা হয়ে উঠতে হবে। এর জন্য আগামী দশকে প্রায় 180 বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন।
2035 সালের মধ্যেই চিপ কিং হয়ে উঠবে ভারত?
নিজের কৌশলগত শক্তির ভিত্তিতে ভারত খুব শীঘ্রই সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিরাট জায়গা করবে। এমনটাই দাবি করছে দ্য ফিউচার অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট। সেখানে বলা হচ্ছে, ভিড় ঠেলে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে ভারত! 2035 সালের মধ্যে দেশে 120-150 বিলিয়ন ডলারের বিশাল সেমিকনডাক্টর ভ্যালু চেইন তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এটাই বিশ্ববাজারে ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রথম নীলনকশা।
বলাই বাহুল্য, এই মুহূর্তে ভারতে চিপের চাহিদা অত্যাধিক। তবে দুঃখের বিষয়, ভারতের মোট চাহিদার 90 থেকে 95 শতাংশ আসে বিদেশ থেকে। অর্থাৎ এই চিপের জন্য বিদেশী শক্তির উপর নির্ভরশীল ভারত। তবে রিপোর্টে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী 2035 সালের মধ্যে আমদানি নির্ভরতা পুরোপুরি কমিয়ে দেশেই তৈরি করা হতে পারে চিপ।
রিপোর্ট বলছে, চিপ ডিজাইনিং থেকে শুরু করে উৎপাদন এবং উন্নত প্যাকেজিং পর্যন্ত সমস্ত অবকাঠামোতে বিপুল পরিমাণ মূলধন প্রয়োজন। আগামী 10 বছরে সেমিকন্ডাক্টর খাতে এগিয়ে থাকতে হলে 135 থেকে 150 বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ নিয়েই নীতি আয়োগ সরকারকে বড় পরামর্শ দিয়েছে। বলা হয়েছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির আস্থা অর্জন করতে একেবারে 180 বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের পুরোটাই ভারত সরকারের নিজস্ব কোষাগার থেকে দেওয়া উচিত।
নীতি আয়োগের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার যখন চিপ তৈরির কারখানার অবকাঠামোতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করবে তখনই প্রকল্পগুলি নিয়ে বেসরকারি সংস্থার সমস্ত ভয় বা ঝুঁকি কেটে যাবে। এর ফলে বেসরকারি কোম্পানিগুলি নিরাপদে এই প্রকল্পগুলিতে বিনিয়োগ করতে পারবে। তাতে আখেরে উন্নতি হবে ভারতের।
অবশ্যই পড়ুন: বদলে যাবে অধিনায়ক থেকে হেড কোচ! এশিয়ান গেমসে টিম ইন্ডিয়ায় এন্ট্রি হবে বৈভব সূর্যবংশীর?
প্রসঙ্গত, ভারতের চিপ তৈরি করা কেন জরুরী এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক কুমার লাহিড়ী খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, “ভারতকে উন্নত জাতি হয়ে উঠতে হলে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অন্যদের উপর থেকে নির্ভরতা কমাতে হবে। একেই বলে প্রযুক্তির সর্বভৌমত্ব। আজকের দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, টেলিকম ইন্ডাস্ট্রি, সাধারণ নাগরিক পরিষেবা সহ পরিবহনেও ব্যবহার হয় ছোট চিপ। 2014 থেকে 2024 সালের মধ্যে গোটা বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর বাজার 6.5 শতাংশ বেড়েছে। আগামীতে সেটা 8.5 শতাংশে পৌঁছবে বলেই আশা করছি।” আর এই কারণে ভারতকে এই সেমিকন্ডাক্টার ইন্ডাস্ট্রিতে স্বনির্ভর হতে হবে পুরোপুরি।










