যেতে পারবেন ২৬০০ জন যাত্রী, প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ছুটল দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পরিচ্ছন্ন রেল পরিবহনের নতুন যুগে প্রবেশ করল ভারত। কথা মতোই অবশেষে, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) হাত ধরে পথচলা শুরু হল ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের ( India Hydrogen Train)। হরিয়ানার জিন্দ থেকে সেনাপতি স্টেশন পর্যন্ত ছুটবে জল দ্বারা চালিত এই হাইড্রোজেন ট্রেন। জাপান, চিন, আমেরিকার মতো উন্নত দেশের পর ভারতের রেল ব্যবস্থায় যুক্ত হল এই পরিবেশ বান্ধব ট্রেন।

দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন নিয়ে কিছু কথা

দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনে যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন পাওয়া গিয়েছিল গত 22 মে। ভারতীয় রেল বোর্ডের তরফে এই বিশেষ অনুমোদনের পরই তড়িঘড়ি বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করতে একেবারে উঠে পড়ে লাগে ভারতীয় রেলওয়ে। রেলের তরফে জানানো হয়েছিল, 17 জুলাই, শুক্রবার দিনটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে জিন্দ-সেনাপতি রুটে ছুটবে এই হাইড্রোজেন ট্রেন। সেই মতোই, আজ দেশের প্রথম পরিবেশ বান্ধব ট্রেনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী।

রেলের তরফে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন–চালিত ব্রডগেজ ট্রেন। প্রথমে ট্রেনটি ট্রায়াল রান করার পর বেশ খানিকটা অপেক্ষা কাটিয়ে অবশেষে যাত্রী নিয়ে বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করছে।

ভারতীয় রেলের ইঞ্জিনিয়ারদের তরফে জানানো হয়েছে, হাইড্রোজেন আসলে বিশ্বের অন্যতম পরিচ্ছন্ন জ্বালানি। প্রথমত জল অর্থাৎ হাইড্রোজেন দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি হয়। পরবর্তীতে সেই বিদ্যুৎ দিয়েই চলে এই হাইড্রোজেন ট্রেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই ট্রেন চলার সময় কোনও ধোয়া বা গ্যাস নির্গত হয় না। বেরোয় শুধুই জলীয় বাষ্প। এর কার্বন নিঃসরণ একেবারে শূন্যই বলা যায়। ফলে এই ট্রেন অত্যন্ত ইকো ফ্রেন্ডলি।

কোন কোন স্টেশনে থামবে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনটি?

হরিয়ানার জিন্দ থেকে সেনাপতি পর্যন্ত 89 কিলোমিটার রুটে একাধিক স্টেশনে দাঁড়াবে এই হাইড্রোজেন ট্রেন। সেই তালিকায় রয়েছে পান্ডু পিন্দারা জংশন, ললিত খেরা হল্ট, ভামভেওয়া, ইসাপুর খেরি হল্ট, বুটানা হল্ট, খান্দরাই হল্ট, রাবরাহ হল্ট, লাথ হল্ট, মোহানা, বারওয়াসনি হল্টের মতো একাধিক স্টেশন।

অবশ্যই পড়ুন: সুবিধা পেয়ে গেল আর্জেন্টিনা? ফাইনালে খেলছেন না ইয়ামাল? বড় খবর

প্রসঙ্গত, দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনটিতে রয়েছে 2400 কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ইঞ্জিন। যার ফলে এই ট্রেন 70 কিলোমিটার থেকে সর্বোচ্চ 110 কিলোমিটার গতি বেগে প্রতি ঘন্টায় ছুটতে পারবে। এছাড়াও এই ট্রেনে থাকছে দুটি হাইড্রোজেন ড্রাইভিং পাওয়ার কার এবং 8টি যাত্রীবাহী কোচ। সবমিলিয়ে মোট 10টি কোচ 2600 জন যাত্রী নিয়ে ছুটতে পারবে। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের পরিষেবা সফল হলে পরবর্তীতে কালকা-শিমলা রুটেও চালানো হবে এই ট্রেন।