বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: শুরুর দিকে গলা ফাটালেও সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে এখন ভারতকে সমীহ করে চলছে পাকিস্তান! মাঝেমধ্যে পশ্চিমের দেশের তরফে হুঙ্কার এলেও পরক্ষণেই ভারতের সাথে আলোচনায় বসতে চাইছে পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা। এরই মাঝে এবার সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে সালিশি আদালতের রায় উড়িয়ে দিল নয়া দিল্লি। ভারতের তরফে একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হল, এই জলচুক্তি নিয়ে সালিশি আদালতের রায় গ্রহণযোগ্য নয়।
আদালতের রায় নিয়ে ভারতের স্পষ্ট বক্তব্য
গতবছর পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পরই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল ভারত। সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয়দাতা পাকিস্তানের সাথে যে সিন্ধু জলচুক্তি হয়েছিল ভারতের, তা স্থগিত করে দেয় নয়া দিল্লি। আর এর পর থেকেই নরমে গরমে বারবার ভারতকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিতে বলেছে পাকিস্তান। তবে নয়া দিল্লি নিজেদের পুরনো সিদ্ধান্ত থেকে এক চুলও সরেনি। বিগত দিন গুলিতে, পাকিস্তানের নেতা মন্ত্রী থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মনির সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারতকে একাধিক হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু তাতে চিরে ভেজেনি!
সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারতের স্থগিতাদেশ তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আলোচনায় বসতে চেয়েছিল পাকিস্তান। তবে ভারতের তরফে একেবারে পরিষ্কার করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রক্ত আর জল একসাথে বইতে পারে না। পাকিস্তানের সাথে যদি কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় তবে তা হবে সীমান্তে সন্ত্রাস বন্ধ করা নিয়ে। তবে পাকিস্তানও হাল ছাড়ার পাত্র নয়! বিগত দিনগুলিতে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েও ভারতকে হুশিয়ারি দিয়ে গেছে তারা।
না বললেই নয়, এর মাঝে ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখায় চুক্তির মধ্যে থাকা বিধান ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত তৈরি করেছিল ইসলামাবাদ। জলচুক্তি নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে রায়ও ঘোষণা করেছিল সেই আদালত। এবার সালিশি আদালতের সেই রায়কে একেবারে উড়িয়ে দিল নয়া দিল্লি। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে একেবারে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, “2026 সালের 15 মে তৈরি হওয়া এই সালিশি আদালত বেআইনিভাবে গঠিত। এর ফলে এই আদালতের সব রায়ের মতোই জলচুক্তি নিয়ে দেওয়া রায়ও ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ভারত এই আদালতকে স্বীকৃতিই দেয়নি।”
অবশ্যই পড়ুন: হরমুজ পেরিয়েছিল আগেই, ২০ হাজার টন LPG নিয়ে এল ভারতীয় জাহাজ ‘সিমি’
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “সিন্ধু জলচুক্তি পাকিস্তানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত একেবারে অন্যায় ভাবে এই চুক্তি স্থগিত করে রেখেছে। সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার প্রশ্নে জল ফিরে পেতে পাকিস্তান সরকার এবং পাক সেনাবাহিনী সব রকম পদক্ষেপ নেবে।”










