সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলার জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সে। আমরা বলছি সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় মুখ নিরঞ্জন মন্ডলকে নিয়ে, যাকে এক ডাকে ‘লাফটারসেন’ (Laughter Sane) নামেই চেনে। আর তিনি এবার বিশ্বের সবথেকে মর্যাদাপূর্ণ এবং গ্ল্যামারাস মঞ্চ কান চলচ্চিত্র উৎসবের রেড কার্পেটে ইতিহাস গড়ে ফেললেন বাঙালি কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসাবে। চিরাচরিত আধুনিক ওয়েস্টার্ন পোশাক বা স্যুট বুট ত্যাগ করে খাঁটি বাঙালি বাবু সেজে ধুতি-পাঞ্জাবিতে কানের রাজকীয় মঞ্চে হেঁটে বিশ্ব মঞ্চে নজর কাড়লেন লাফটারসেন।
ঐশ্বর্য রাই বচ্চন থেকে শুরু করে আলিয়াভাট বা প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো তারকাদের পর এবার কানের ঐতিহ্যবাহী রেড কার্পেটে এক বাঙালি ছেলের পায়ের ছাপ পড়ল। কিন্তু কোনও নামি বিদেশী ব্র্যান্ডের ডিজাইনার পোশাক নয়, বরং নিজের মাটির সংস্কৃতিকেই তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দিলেন। খাকি ধুতি-পাঞ্জাবি এবং কালো জহর কোট পড়ে গটগট করে হাঁটলেন বাংলার প্রথম কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নিরঞ্জন মন্ডল ওরফে লাফটারসেন। সমাজমাধ্যমে ইতিমধ্যেই আপামর বাঙালি তাঁর এই কৃতিত্বে গর্বে বুক ফুলিয়েছেন।
সাবেকি লুকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাপট
আসলে কানের রেড কার্পেটে যখন একের পর এক আন্তর্জাতিক তারকাদের ক্যামেরার ফ্লাশ ঝলসে উঠছিল, ঠিক তখনই সেখানে বাঙালি নিরঞ্জন ঐতিহ্যবাহী ধবধবে সাদা ধুতি এবং ম্যাচিং পাঞ্জাবি আর উপরে একটি সুদৃশ্য কালো কোট পরে হাজির হন। তাঁর চোখে ছিল পুরনো সাবেকি ফ্রেমের চশমা, আর হাতে ঠাকুরদার আমলের হাতঘড়ি। তবে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় অসংখ্য ক্যামেরার ফ্লাশ আর ভিড়ের মাঝে প্রথমে খানিকটা নার্ভাস লাগলেও অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের ঐতিহ্য নিয়ে রেড কার্পেটে দাপিয়েছেন এই তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
তবে সেখানে হাঁটার পর বিদেশি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নিরঞ্জন। আর সেখানে এক সাংবাদিক তাঁর হাতের পুরনো ঘড়িটি চিনতে না পারায় নিরঞ্জন মিষ্টি হেসে সেই ভিন্টেজ ঘড়ির আবেগ এবং বাঙালি সংস্কৃতির মর্ম বুঝিয়ে দেন। তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং কেন এই পোশাক তাঁর কাছে অন্য যে কোনও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের চেয়ে বেশি মূল্যবান তাও জানান।
আরও পড়ুন: বিকেলে ঝেঁপে বৃষ্টি কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলায়, হঠাৎ মুড বদলাবে আবহাওয়া
আসলে ডিজিটাল দুনিয়ায় যারা নিয়মিত যাতায়াত করেন বা নিয়মিত কনটেন্ট ক্রিয়েট করেন, তাদের কাছে লাফটারসেন পরিচিত একজন নাম। কখনও আলু-ফুলকপির মজাদার গল্প, আবার কখনও কখনও ‘মিষ্টি বাপী’ সিরিজ, নিজস্ব কন্টেন্ট দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের মন জয় করেন তিনি। আর সমসাময়িক স্পর্শকাতর বিষয়ে তাঁর সংবেদনশীল ভিডিও বরাবরই নেটিজেনদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে তাঁর এই বাঙালিয়ানা কৃতিত্ব তাঁকে যে দেশবাসীর কাছে আরও জনপ্রিয় করে তুলল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।










