বিদেশ থেকে আমদানি করা যাবে না রুপো, নিষেধাজ্ঞা চাপাল কেন্দ্র

Published:

Silver Import

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখার জন্য এমনিতেই প্রধানমন্ত্রী সোনা কেনার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। আগামী এক বছর সোনা কিনতে নিষেধ করেছেন মোদী। তবে গত বুধবার সোনা এবং রুপোর (Gold And Silver) উপর আমদানি শুল্ক ৬% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করা হয়। আর এবার রুপো আমদানির (Silver Import) উপরেও সরাসরি আইন নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। গত এপ্রিল মাসের বার্ষিক ভিত্তিতে রুপো আমদানি আনুমানিক ১৫৭.১৬% বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বড় সিদ্ধান্ত বাণিজ্য মন্ত্রকের।

কী বদল আনা হল?

বাণিজ্য মন্ত্রকের অধীনস্থ সংস্থা ডিজিএফটি জানাচ্ছে, ITC HS Code 71069221 এবং 71069229 এর আওতায় থাকা পণ্যগুলির আমদানি নীতিতে এবার পরিবর্তন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৯৯.৯% বা তার বেশি খাঁটি রুপোর বার বা বুলিয়ান অন্তর্ভুক্ত। এতদিন পর্যন্ত যে কেউ আইনি জটিলতা ছাড়াই বিদেশ থেকে মুক্ত নীতির মাধ্যমে রুপো আমদানি করতে পারত। তবে এখন থেকে এই আমদানি বন্ধ। এখন যে কোনও আমদানিকারক রুপো দেশের আগে দেশে আনার আগে সরকারের কাছ থেকে বিশেষ লাইসেন্স বা অনুমোদন নিতে হবে।

আসলে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় ভারত সরকার এখন আগাম সতর্ক হচ্ছে। ভারতের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ৬৯০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। যা দিয়ে আগামী ১০ মাসের আমদানি খরচ মেটানো সম্ভব। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল এবং সারের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস আমদানির জন্য ডলার বাচিয়ে রাখতেই সরকারের বড় পদক্ষেপ। এদিকে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এড়ানোর জন্য এবং আগামী এক বছর সোনা কিনতে বিরত থাকতেও অনুরোধ করেছেন, যাতে দেশের মূলধন বাইরে না চলে যায়।

আরও পড়ুন: কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, অভিষেকের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় FIR দায়ের

সরকারের দেওয়া একটি তথ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক মাসে দেশে রুপো আমদানির পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছিল, যা অর্থনীতিবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সোনা আমদানি ২৪.০৮% বেড়ে ৭১.৯৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। আর সেখানে রুপো আমদানি এক ধাক্কায় ১৪৯.৪৮% বেড়ে ১২.০৫ বিলিয়ন ডলারে ঠেকে। এদিকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ৪১১.০৬ মিলিয়ন ডলারের রুপো আমদানি করা হয়েছে, যা বিগত বছরের এপ্রিল মাসের তুলনায় ১৮১.১৭% বেশি। এমনকি গত মার্চ মাসেও রুপো আমদানির পরিমাণ ৯১ শতাংশ বাড়ে। যে কারণেই এবার সরকারের বড়সড় পদক্ষেপ।