সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এই নিয়ে দ্বিতীয় বার এফআইআর দায়ের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে। প্রথমবার অমিত শাহ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। এবার তাঁরই দলের প্রাক্তন বিধায়ক তাঁর নামে এফআইআর লেখালেন। সূত্রের খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিমের প্রাক্তন বিধায়ক তথা সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লা তৎকালীন অ্যাডিশনাল জোনাল মিতুন কুমার দে এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন থানায়।
দ্বিতীয় এফআইআর দায়ের অভিষেকের বিরুদ্ধে
গিয়াসউদ্দিন মোল্লার দাবি, পশ্চিম মগরাহাট বিধানসভার প্রধান, পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ বা পঞ্চায়েত সমিতির প্রতিটি দপ্তরের টিকিট পাইয়ে দিতেন মিতুন কুমার দে। এমনকি তাঁর অফিসে বসেই কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করেছেন। পাশাপাশি এক তৃণমূল কর্মীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ রয়েছে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, থানার মধ্যে মারধরের পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনও হয়েছে। প্রতিবাদ করেও কোনও রকম ফলাফল পাননি। এমনকি উল্টে মিতুন কুমার দে তাঁকে ধমক দিয়েছিলেন এবং লাঠি উঁচিয়ে মারতে এসেছিলেন।
তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সবটাই জানতেন। তাঁর মদতেই এই কাজ হয়েছে। তার নির্দেশ মেনেই মিতুন কুমার দে এই দুর্নীতি করেছেন। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চুপ ছিলেন। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সবটা জানালেও কোনও সুরহা মেলেনি। তিনি জানিয়েছেন যে, এসডিপিও মিতুন কুমার হঠাৎ করে কয়েক দিনের মধ্যেই ডায়মন্ড হারবারের অ্যাডিশনাল এসপি হয়ে গিয়েছিলেন। এমনকি তিনি আষাঢ় পর রাতারাতি এসডিপিও অফিস পরিবর্তন হয়ে যায়। আর সবটার পিছনেই রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন: অভিষেকের পর এবার কল্যাণ, শোভনদেব, কুণালদের নিরাপত্তায় কাটছাঁট রাজ্য সরকারের
তাঁর আরও দাবি, বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ঘনিষ্ঠ। আর তাঁর উপর ভরসা রেখেই থানায় এফআইআর দায়ের করতে এসেছেন। এতদিন দলের বিরুদ্ধে তিনি মুখ খুলতে পারেননি। প্রশাসনের অত্যাচার তিনি সহ্য করতে পারেননি। তাঁর কথায়, “আমি যথেষ্ট আতঙ্কের মধ্য দিয়েই যাচ্ছি। এতদিন আমি অভিযোগ দায়ের করতে পারিনি। তবে আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর আস্থা রেখেই এফআইআর দায়ের করতে এসেছি। আতঙ্ক এবং ভয়ের মধ্যে ছিলাম। দোষীর উপযুক্ত শাস্তি হোক।”










