ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা থোড়াই কেয়ার! রাশিয়া থেকে তেল কিনবেই ভারত, জানাল সরকারি সূত্র

Published:

India Import Oil From Russia

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এমনিতেই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের (Middle East War) কারণে তেলের সংকটে দিন কাটাচ্ছে ভারত সহ প্রতিবেশী দেশগুলি। আর সেই আবহে নিজের অবস্থানে অনড় নয়াদিল্লি। গত ১১ এপ্রিল আমেরিকার দেওয়া ৩০ দিনের বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সেক্ষেত্রে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল বা এলপিজি আমদানি বন্ধ করার কথা ছিল ভারতের (India Import Oil From Russia)। কিন্তু কাজ হল না ট্রাম্পের চোখ রাঙানিতে। সরকারি সূত্র স্পষ্ট জানিয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারতের অধিকার। আর এই সিদ্ধান্তে কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার উপর নির্ভর করবে না ভারত।

আমেরিকার হুঁশিয়ারি সত্বেও ভারতের কড়া অবস্থান

প্রসঙ্গত, ইরানের উপর নতুন করে অর্থনৈতিক ক্ষোভ দেখানোর হুমকি দিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এমনকি যারা ইরানকে সমর্থন করবে তাদের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করার কথা বলেছিল ওয়াশিংটন। রাশিয়ার থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রেও ছাড়ের মেয়াদ না বাড়ানোর কথা বলে ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু ভারতের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, ছাড় দেওয়া বা না দেওয়া আমেরিকার নিজস্ব বিষয়। ভারতের আমদানি কৌশল তারা নির্ধারণ করতে পারবে না। আমরা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সংস্থাগুলির কাছ থেকে তেল এবং এলপিজি কেনা চালিয়ে যাব।

এদিকে বিশ্বখ্যাত জ্বালানি গোয়েন্দা সংস্থা কেপলার এবং ভরটেক্সার দেওয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ এর মার্চ মাসে রাশিয়া থেকে দৈনিক গড়ে ১.৯৮ থেকে ২.০৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করে ফেলেছে ভারত। যা ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ। এদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারতের মোট আমদানিকৃত তেলের ৩৫.৮ শতাংশই রাশিয়া থেকে এসেছে। আর চিনের পরেই ভারত বর্তমানে রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানির দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। এমনকি শুধুমাত্র মার্চ মাসেই ভারত ৫.৮ বিলিয়ন ইউরো রুশ হাইড্রোকার্বন কিনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি তেল শোধনাগারগুলি রাশিয়া থেকে তেল কেনা ১৪৮ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় সেখানে তেলের দাম অনেকটাই কম।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে ৭০টি লঞ্চ প্যাডে ভারতে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় ৮০০-র বেশি জঙ্গি

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভারত এখন আর শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যের উপরে নির্ভরশীল থাকতে চাইছে না। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম সচিব নিরজ মিত্তল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত এখন অনেক বেশি উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছে। আগে ২৭টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা হতো। তবে এখন তা ৪১টি দেশ থেকে কেনা হচ্ছে। এমনকি আগে ৬টি দেশ থেকে এলএনজি আসত। এখন আসছে ৩০টি দেশ থেকে। পাশাপাশি আগে এলপিজি আসত ১০টি দেশ থেকে। এখন তা ১৬টি দেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে। যতদিন মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হচ্ছে, ততদিন রাশিয়া থেকে তেল কিনে যাবে ভারত, এমনটাই জানানো হয়েছে।