পাকিস্তানে ৭০টি লঞ্চ প্যাডে ভারতে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় ৮০০-র বেশি জঙ্গি

Published:

Pakistan Terrorist

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সীমান্তের ওপারে ফের নাশকতার ছক কষছে সন্ত্রাসের দেশ পাকিস্তান (Pakistan)। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে আসছে হাড়হিম করা তথ্য। জানা গিয়েছে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর আনুমানিক ৭০ থেকে ৭২টি জঙ্গি লঞ্চপ্যাড নতুন করে সক্রিয় করা হচ্ছে। আর সেখানে বর্তমানে ৮০০-র বেশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গি ভারতে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় বসে রয়েছে (Pakistan Terrorist)। এমনকি কোনও কোনও গোয়েন্দা সূত্র দাবি করছে, এই সংখ্যা ১০০০ থেকে ১৫০০ হতে পারে।

বড়সড় অনুপ্রবেশের আশঙ্কা সীমান্তে

২০২৫ এর মে মাসে ভারতের করা অপারেশন সিঁদুরে সাময়িকভাবে জঙ্গি ঘাঁটিগুলি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় আর্মি। তবে গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তান এখন তাদের রণকৌশল বদলে ফেলেছে। ভারতের ড্রোন হামলা বা নিখুঁত নিশনার আঘাত এড়ানোর জন্য এবার তারা নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে বেশ কিছুটা দূরে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের শিয়ালকোট ও জাফারওয়ালের মতো গভীর এলাকাগুলিতে ১২টি লঞ্চপ্যাড সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এমনকি এবার আর দু-একজন নয়, বরং ১০ থেকে ১৫ জনের বড় বড় দলে জঙ্গিদের পাঠানোর পরিকল্পনা করছে আইএসআই। আর তাদের ধারণা, একযোগে পয়েন্ট দিয়ে যদি জঙ্গি পাঠানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে সীমান্ত রক্ষা বাহিনী ব্যস্ত থাকবে। আর সেই ফাঁকেই কিছু জঙ্গি অনুপ্রবেশ করতে সফল হবে।

এদিকে রিপোর্টে নির্দিষ্টভাবে লস্কর-ই-তইবা এবং জইস-ই-মহম্মদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি আইএসআই এর মদতে এই দুই সংগঠন বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীরে বিশৃঙ্খলা তৈরির প্রধান দায়িত্ব নিয়েছে বলেই খবর। আর শুধু তাই নয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেই বিশ্বের নজর অন্যদিকে সরিয়ে ভারতের উপরে আঘাত করার চেষ্টা করছে সন্ত্রাসের দেশ।

আরও পড়ুন: জামিন পেলেন বাংলাদেশে বন্দী হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, কবে হবে জেলমুক্তি?

প্রসঙ্গত, গত বছরের এপ্রিল মাসে পহেলাগাঁওতে জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত যে অপারেশন সিঁদুর চালিয়েছিল, তাতে পাকিস্তানের নয়টি জঙ্গি ঘাঁটি কার্যত গুঁড়িয়ে গিয়েছিল। সূত্রের খবর, ওই পরাজয়ের পর জঙ্গি সংগঠনগুলি আইএসআই-র উপর চাপ সৃষ্টি করে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। আর সেই চাপের ফলে গত কয়েক মাসে লঞ্চ প্যাডগুলিতে জঙ্গির সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে। তবে সীমান্তে তৎপরতা বাড়ানোর জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে বিএসএফ, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশকে হাই এলার্ট দেওয়া হয়েছে। আর ড্রোনের মাধ্যমে কড়া নজরদারি, সেন্সর ব্যবহার আরও কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় টহলদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।