সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব দিনের পর দিন বাড়ছে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংঘর্ষগুলিতে মানববিহীন যুদ্ধবিমান কিংবা লয়টারিং মিউনিশনের কার্যকারিতা নতুন করে দেখানোর কিছু নেই। এবার তারই মধ্যে বড় উদ্যোগ নিল ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force)। দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে দূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোন (Kamikaze Drone) তৈরির পরিকল্পনা শুরু করেছে ভারত সরকার। আর এই প্রকল্পে ভারতের শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বায়ুসেনা। সবথেকে বড় বিষয়, এবার শুধুমাত্র ক্রেতার ভূমিকায় নয়, বরং ড্রোনের ডিজাইন থেকে প্রযুক্তি, সবকিছুর উপর নিয়ন্ত্রণ রাখবে বায়ুসেনা।
কী এই কামিকাজে ড্রোন?
জানিয়ে দিই, কামিকাজে ড্রোন বা One-Way Attack Unmanned Aerial System এমন এক ধরনের মানববিহীন আক্রমণাত্মক ড্রোন, যেটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হেনে নিজেকেই ধ্বংস করে দেয়। আর এই ধরনের ড্রোন শত্রুপক্ষের বাঙ্কার, কমান্ড সেন্টার, সামরিক যানবাহন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিকে ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হয়। কম খরচে নির্ভুল হামলার জন্য বিশ্বজুড়ে এর কদর দিনের পর দিন বাড়ছে।
তবে সাধারণভাবে প্রতিরক্ষা মহলে সশস্ত্র বাহিনী শুধুমাত্র প্রয়োজনীয়তা জানায়, এবং শিল্প সংস্থাগুলি সেই অনুযায়ী প্রযুক্তি তৈরি করে। কিন্তু এবার এই প্রকল্পে ভারতীয় বায়ুসেনা সরাসরি নকশা এবং উন্নয়নে কাজ করবে। এর ফলে ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোনে পরিবর্তন, আপগ্রেড কিংবা নতুন ফিচার্স যুক্ত করার ক্ষেত্রে আর কোনও বেসরকারি সংস্থার উপর নির্ভর করতে হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা এবং মেড-ইন ইন্ডিয়া প্রযুক্তিকে আরও একধাপ উপরে নিয়ে যাবে।
কোথা থেকে পরিচালিত হবে এই প্রকল্প?
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই উচ্চ প্রযুক্তির প্রকল্পের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে অবস্থিত বায়ুসেনার ৫ রিপেয়ার ডিপো সুলুরকে। এই কেন্দ্র প্রকল্পের মূল সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। আর বিভিন্ন শিল্প সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে উন্নয়নে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
আরও পড়ুন: গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে বর্ধমান উত্তরের বিজেপি প্রার্থী
কী কী বিশেষত্ব থাকবে এই ড্রোনে?
যেমনটা জানা যাচ্ছে, ভারতীয় বায়ুসেনা নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদন্ড অনুযায়ী এই নতুন প্রজন্মের ড্রোন অত্যন্ত উন্নত ক্ষমতাসম্পন্ন হবে। প্রথমত, ড্রোনটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত কার্যকরভাবে উড়তে পারবে। যার ফলে লাদাখ, অরুণাচল প্রদেশ কিংবা অন্যান্য উচ্চ পার্বত্য এলাকায় সহজে মোতায়েন করা যাবে। দ্বিতীয়ত, অন্তত ৩০ কেজি ওজনের মডুলার ওয়ার হেড বহন করতে পারবে, যার মাধ্যমে শত্রুর সাঁজোয়া যান, বাঙ্কারে সরাসরি হামলা চালানো যাবে। এমনকি শুধু আক্রমণ নয়, বরং নজরদারি, ডেটা ডিলে, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সেন্সর ভিত্তিক পর্যবেক্ষণের কাজেও এই ব্যবহার করা হবে।










