বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইতিহাস গড়তে চলেছে ভারতীয় নৌসেনা (Indian Navy)। দেশের সামুদ্রিক শক্তিকে আরও বৃদ্ধি করতে এবার কলকাতায় একসাথে তিনটি যুদ্ধজাহাজ আইএনএস ডুনাগিরি, আইএনএস আগ্রা এবং আইএনএস সংশোধনক বা মডিফায়ারের উদ্বোধন করবে নৌবাহিনী। সূত্রের খবর, শহরে ভারতীয় নৌসেনার সেই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রীরাও। কূটনৈতিক মহলের অনেকেরই দাবি, ভারতীয় নৌবাহিনীর ভাঁড়ারে নতুন তিনটি অত্যাধুনিক এবং শক্তিশালী যুদ্ধ জাহাজ যুক্ত হলে কার্যত থরথর করে কাঁপবে পাকিস্তান, চিনের মতো শত্রুরা!
দ্বিতীয়বারের মতো তিন যুদ্ধ জাহাজের উদ্বোধনে ভারতীয় নৌসেনা
সমুদ্রে নিজেদের উপস্থিতি শক্তিশালী করতে বিগত দিনগুলিতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতীয় নৌসেনা। এর আগে প্রথমবারের মতো গত জানুয়ারিতে মুম্বইয়ে ভারতীয় নৌ বাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল তিনটি বৃহৎ যুদ্ধজাহাজ। এবার সেই পথ ধরেই দ্বিতীয়বারের মতো শহর কলকাতায় তিন বিরাট যুদ্ধ জাহাজের উদ্বোধন করবে ভারতীয় নৌসেনা। সেই শুভ কাজ হবে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরেই!
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ভারতের তিন যুদ্ধ জাহাজের বৈশিষ্ট্য
আইএনএস ডুনাগিরি
ভারতীয় নৌবাহিনীর নতুন যুদ্ধজাহাজ আইএনএস ডুনাগিরি একটি শক্তিশালী স্টিলথ গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট। এটি যাতে শত্রুর রাডারে ধরা না পড়ে সেভাবেই ডিজাইন করা হয়েছে। জাহাজটি ভারতের অন্যতম প্রাণঘাতী মিসাইল ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল সহ অত্যাধুনিক টর্পেডো দিয়ে সাজানো। এই যুদ্ধ জাহাজ জলসীমা এমনকি বিমান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিহত করতে সক্ষম। সবচেয়ে বড় কথা, এই জাহাজ CODOG সিস্টেমে চলে। অর্থাৎ ডিজেলের পাশাপাশি গ্যাস টারবাইন ঘুরিয়েও চালানো যায় এই জাহাজ।
আইএনএস আগ্রে
এটি মূলত ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তিশালী ডুবোজাহাজ। এই জাহাজ মূলত অগভীর জলে বিভিন্ন সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজগুলিকে সনাক্ত করে সেগুলিকে ধ্বংস করতে সক্ষম। বিশেষ করে উপকূলবর্তী অঞ্চলে অর্থাৎ সমুদ্রের সামান্য নিচ থেকে হামলা চালাতে আসা শত্রুর ডুবোজাহাজকে চোখের পলকে শেষ করতে পারে এই জাহাজ। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী টর্পেডো এবং ভারতীয় রকেট লঞ্চার দিয়ে সজ্জিত।
অবশ্যই পড়ুন: রুখে দিয়েছেন রোনাল্ডোদের, চেনেন কঙ্গোর ভারতীয় বংশোদ্ভুত মুতুস্বামীকে?
আইএনএস মডিফায়ার
আইএনএস মডিফায়ার মূলত হাইড্রোগ্রাফিক সমীক্ষা জাহাজ। এর কাজ ম্যাপ তৈরি করা। কিন্তু তা হলেও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই জাহাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসলে যুদ্ধ জাহাজ এমনকি সাবমেরিন এর চলাচলের জন্য জলপথ, পর্বত মালা এমনকি জলের গভীরতা জানতে সঠিক মানচিত্র তৈরি করতে হয়। ঠিক সেই কাজটাই অর্থাৎ গুগল ম্যাপ তৈরির কাজ করে এই জাহাজ। এই জাহাজের হাত ধরে তৈরি ম্যাপগুলি দেখেই সঠিক পথ ধরে গন্তব্যে পৌঁছয় ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজগুলি।










