ভারতে বাড়তে চলেছে ইন্টারনেটের খরচ? ট্যাক্স নেওয়ার পরিকল্পনা ইরানের!

Published:

Internet Bill Will May increase in India

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় ধাক্কা খেয়েছে বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্য (Internet Bill)। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতেও। এবার গোটা বিশ্বের ইন্টারনেট কানেকশন নিয়ে উঠে এলো নতুন খবর। ইরানি বিপ্লবী গার্ডসের সংবাদ সংস্থা তাসনিম এক রিপোর্টে জানিয়েছে, ইরান নাকি, এবার ডিজিটাল ডেটা ট্যাক্স নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হ্যাঁ, ফাইবার অপটিক কেবলের জন্য অতিরিক্ত অর্থ চার্জ করতে পারে তেহরান।

বাড়বে ইন্টারনেটের খরচ?

হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া বিভিন্ন ফাইবার অপটিক কেবলের মধ্যে দিয়ে গোটা বিশ্বে ইন্টারনেট সরবরাহ করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলি এই ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগরের পরিস্থিতি জটিল হলে ভারত সহ একাধিক দেশের ইন্টারনেট পরিষেবা, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদিও এ নিয়ে ইরানের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি।

বলাই বাহুল্য, হরমুজ প্রণালীর তেল পথের পাশাপাশি ইন্টারনেটেও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইরানের। আসলে এই জলপথের নিচ থেকে যাওয়া ইন্টারনেটের অপটিক ফাইবার কেবলের মাধ্যমে আসা ইন্টারনেট দিয়ে ব্যাঙ্কিং সেক্টর থেকে শুরু করে AI, ক্লাউড পরিষেবা সহ একাধিক কাজ হয়ে থাকে। যদি কোনও যুদ্ধ বড় আকার ধারণ করে এবং হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগর দিয়ে যাওয়া ইন্টারনেটের তারগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেক্ষেত্রে গোটা বিশ্বের ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হরমুজের নিচ থেকে 20টিরও বেশি তারের মধ্যে দিয়ে ইন্টারনেট সরবরাহ করা হয়। এর ফলে বিশ্বের 17 থেকে 30 শতাংশ ইন্টারনেটের চাহিদা পূরণ হয়। শোনা যাচ্ছে, এবার হরমুজ থেকে যাওয়া সেইসব আন্ডারওয়াটার ইন্টারনেট কেবিলগুলির জন্য আলাদা করে ট্যাক্স বা কর নেবে ইরান! বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইরান যদি শেষ পর্যন্ত এই সব ইন্টারনেট কেবলের জন্য আলাদা করে অর্থ নেয় সেক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যেতে পারে ইন্টারনেটের খরচ।

অবশ্যই পড়ুন: সীমান্তে আর ঢিলেমি নয়, ‘চিকেনস নেক’-র সুরক্ষা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিশীথের

এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, ভারতের প্রায় 60 শতাংশ ইন্টারনেট ট্রাফিক মুম্বই এবং লোহিত সাগরের পথ দিয়ে ইউরোপে যায়।। যদি এই পথে কোনও বাধা থাকে তবে ইন্টারনেটের গতি ধীর হয়ে যেতে পারে। যার ফলে প্রভাবিত হবে ইন্টারনেট সংক্রান্ত সমস্ত পরিষেবাই। ভারতের ইন্টারনেট ট্রাফিকের বাকি 40 শতাংশ চেন্নাই থেকে সিঙ্গাপুর এবং প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত যায়।

এই মুহূর্তে 17টি বড় আন্ডারওয়াটার তারগুলি লোহিত সাগরের মধ্যে দিয়ে এশিয়া, ইউরোপ এবং আফ্রিকার মধ্যে ডেটা সরবরাহ করে। তাছাড়াও কিছু ভারতীয় সংস্থার ইন্টারনেট কেবল হরমুজ প্রণালীর মধ্যে দিয়েও যায়। আর সে কারণেই স্বদেশী সংস্থাগুলি সেইসব তারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ইরানের সাথে যথাযথ আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছিল। কারণ ইরান যদি, এইসব তারের উপর কর বাসায় তবে ভারতে ইন্টারনেটের খরচ বেশ খানিকটা বেড়ে যাবে।