আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম (LPG Price) দেশের বহু মধ্যবিত্ত পরিবারের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কোনও উপায় না পেয়ে রান্নার জন্য বাধ্য হয়েই কাঠ বা অন্যান্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটার কাউন্সিল (CEW)-এর এক সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৪০০ টাকার মধ্যে নামলে ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষ রান্নার জন্য পুরোপুরি গ্যাসের উপর নির্ভর করতে পারবেন। সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমানে একটি সিলিন্ডার রিফিলের জন্য মানুষের গড়ে ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করার সামর্থ্য রয়েছে। কিন্তু উজ্জ্বলা যোজনায় ভর্তুকি পাওয়ার পরেও সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৬৪২ টাকা। যা সাধারণ মানুষের জন্য অনেকটাই বেশি।
উজ্জ্বলা থেকে দূরে বহু পরিযায়ী শ্রমিক
বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের অবস্থা তো আরও উদ্বেগজনক। CEW-এর সমীক্ষা বলছে, তাঁদের ৭৯ শতাংশের কাছে কোনও গ্যাস সংযোগ ব্যবস্থাই নেই। প্রধানমন্ত্রীর উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন ৪ শতাংশেরও কম শ্রমিক। অথচ ২০২১ সালের নীতিতে বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সেল্ফ-ডিক্লারেশনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সুবিধা সম্পর্কে অনেকে জানেনই না। এই পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঝামেলায় অনেকেই এখনও এই প্রকল্পে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি।
CEW-এর ফেলো প্রার্থনা বরাহের মতে, শুধু গ্যাসের সংযোগ পৌঁছে দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায় না। ফুরিয়ে গেলে পুনরায় কেনার সামর্থ্য, প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে নির্ভরযোগ্য সিলিন্ডার সরবরাহ ব্যবস্থা, এই বিষয়গুলিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, শহুরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা বস্তিতে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ পুরোপুরি গ্যাস ব্যবহার করেন। কিন্তু ঠিকানা সংক্রান্ত উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে এখনও প্রকৃতভাবে গ্যাস সংযোগ পায়নি ৩১ শতাংশ মানুষ। তাদের মধ্যে ১১ শতাংশকে আবার ১,০৪০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে, খোলা জায়গায় থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের ৭০ শতাংশ এখনও কাঠ ও কয়লার মতো জ্বালানির উপর নির্ভরশীল।
আরও পড়ুন: কারও কথা শুনছেন না ‘অবাধ্য’ বৈভব সূর্যবংশী! তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ফের ৮ রানে আউট
এই জটিল সমস্যা সমাধানে একাধিক পরামর্শ দিয়েছে CEW। প্রতি সিলিন্ডারে উজ্জ্বলা ভর্তুকি প্রায় ২০০ টাকা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ পঞ্জিকরণ অভিযান চালিয়ে তাঁদেরকেও সরকারের প্রকল্পের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। ছোট ছোট কিস্তিতে গ্যাসের খরচ জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে স্মার্ট মিটার কিয়স্কের পাইলট প্রকল্প চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকায় সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে ডেলিভারি এজেন্টদের জন্য পৃথক কমিশনের ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে রিপোর্টটি। এবার এই ব্যবস্থাপনা মানুষকে কতটা সাহায্য করতে পারে সেটাই দেখার বিষয়।









