অনন্যা সরকার, ঝাড়খণ্ড: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান নায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে ঝাড়খণ্ডের গোমোহ রেলওয়ে স্টেশনটি। তাই রেল কর্তৃপক্ষ ২০০৯ সালে গোমোহ রেলওয়ে স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু গোমোহ জংশন (Netaji Subhash Chandra Bose Gomoh Junction) রাখে। এখন সেই স্টেশনেই নেতাজির নামের ইংরেজি বানানে বড়সড় ভুল ধরা পড়েছে। দেশের এক মহান বিপ্লবীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত এই স্টেশনে রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অবহেলার বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা চলছে।
রেল স্টেশনে নেতাজির নামের বানান ভুল
সম্প্রতি রাহুল কুমার নামে এক ট্রেন যাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় গোমোহ রেলওয়ে স্টেশনের শেডের ওপর থাকা একটি নেমবোর্ডের ছবি পোস্ট করেন, যেখানে নেতাজির নামের ইংরেজি বানানে বড় ধরনের ভুল ছিল। বোস পদবিটি ‘Bose’-এর পরিবর্তে ‘Bosh’ লেখা হয়েছে। এই ছবিটি দ্রুত ভাইরাল হয় এবং নেটিজেনরা এর তীব্র সমালোচনা করেন। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, ভারতের স্বাধীনতায় যে মানুষটার অবদান অনস্বীকার্য, তাঁর প্রতি এমন ঔদাসীন্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
প্রসঙ্গত, গোমোহ স্টেশনটি ঐতিহাসিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪১ সালের জানুয়ারি মাসে এই স্টেশন থেকেই গৃহবন্দী থাকা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ব্রিটিশ পুলিশের চোখ এড়িয়ে ট্রেনে করে তাঁর ঐতিহাসিক ‘মহানিষ্ক্রমণ’ (Great Escape)-এর যাত্রা শুরু করেন। তাঁর এই স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই পরবর্তীকালে স্টেশনটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু গোমোহ স্টেশন’। তাই স্বাভাবিকভাবেই এরকম একটি ঐতিহাসিক স্টেশনের সাইনবোর্ডে ভুল বানান সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
আরও পড়ুন: ঠিক যেন এক টুকরো স্বর্গ! দিঘা-দার্জিলিং ছেড়ে এবার ঘুরে আসুন উত্তরবঙ্গের ‘রেল্লি খোলা’
তবে, এই বিতর্ক ও সমালোচনার পর রেল প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়েছে। বিষয়টি পূর্ব-মধ্য রেলের ধানবাদ রেল ডিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর, তাঁরা এটি দ্রুত সংশোধন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাইনবোর্ডে থাকা এই ভুলটি অনিচ্ছাকৃত এবং তারা এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। ধানবাদ রেল ডিভিশন বানান সংশোধন করে যত দ্রুত সম্ভব সঠিক সাইনবোর্ড বসানোর আশ্বাস দিয়েছে।
তবে, রেল কর্তৃপক্ষের তরফে আশ্বাস মেলার পরেও কিছু প্রশ্ন এখনও উঠছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন যে, স্টেশনটির সাইনবোর্ডটি যখন তৈরি করা হচ্ছিল বা রং করা হচ্ছিল সেসময় দায়িত্বপ্রাপ্ত রেল কর্মকর্তারা কেন তা যাচাই করে নেননি? তাছাড়া, এতদিন এই ভুলটি কীভাবে সবার নজর এড়িয়ে গেল? রেল প্রশাসন কত দ্রুত এই সাইনবোর্ড পরিবর্তন করে, তার জন্যই এখন নেতাজির অনুরাগী ও সাধারণ জনতা অপেক্ষা করছেন।










