ভিআইপি বন্দেভারত, রাজধানীর জন্য দাঁড়াতে হবে সাধারণ ট্রেনকে! নতুন নিয়মের পথে রেল

Published:

Indian Railways

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: প্রতিনিয় ট্রেনে যাতায়াত করেন? তাহলে আপনার জন্য রইল বড় খবর। ভারতের সাধারণ ট্রেনের যাত্রীদের জন্য এই প্রতিবেদনটি। দূরপাল্লার বা লোকাল ট্রেন সফরের সময় অন্য কোনও ভিআইপি ট্রেনের জন্য লুপ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার দিন অবশেষে শেষ হতে চলেছে (Indian Railways)। ভিআইপি ও সাধারণ ট্রেনের এই বৈষম্য দূর করার জন্য এবার ভারতীয় রেল সম্পূর্ণ নতুন সময়সূচির ব্যবস্থা নিচ্ছে। যার ফলে ট্রেন লেটের হার ৯০ শতাংশ কমবে।

ভিআইপি ট্রেনের জন্য থামবে না সাধারণ ট্রেন

আসলে এতদিন পর্যন্ত বন্দে ভারত, রাজধানী বা শতাব্দীর মতো প্রিমিয়াম ও ভিআইপি ট্রেনগুলিকে আগে রাস্তা করে দেওয়ার জন্য সাধারণ মেল, এক্সপ্রেস বা প্যাসেঞ্জার ট্রেনগুলিকে মাঝ রাস্তায় আটকে দেওয়া হত। যার ফলে সাধারণ ট্রেনগুলি ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেট হত। এমনকি যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হত। তবে রেল মন্ত্রকের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবার থেকে সমস্ত ট্রেনের গতি এবং সময় এমনভাবে তৈরি করা হবে, যাতে কোনও ট্রেনকে অন্য ট্রেনের জন্য না দাঁড়াতে হয়।

কীভাবে কাজ করবে নতুন ব্যবস্থা?

রিপোর্ট অনুযায়ী, রেলের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, বর্তমান রেলের সময়সূচি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতেই চলে। তবে নতুন নিয়মে প্রিমিয়াম বা ভিআইপি ট্রেনগুলোকে আলাদাভাবে একটি নির্দিষ্ট কম্বাইন্ড অনুযায়ী চালানো হবে। সেক্ষেত্রে যে ট্রেনগুলোর গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার হবে, সেগুলোকে মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিটের নিরাপদ ব্যবধানে একের পর এক লাইন ছাড়া হবে। তার মধ্যে বন্দে ভারত, রাজধানী ইত্যাদি ট্রেন থাকবে। এর পাশাপাশি দ্বিতীয় স্লটে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার বেগে চলা ট্রেনগুলিকে চালানো হবে। আর সামান্য গতির ট্রেনগুলি গোটা রুটে আগেপিছে চলতে থাকার কারণে কোনও ট্রেনকে লুপ লাইনে দাঁড়িয়ে ওভারটেক করানোর প্রয়োজন পড়বে না।

আরও পড়ুন: ভিআইপি বন্দেভারত, রাজধানীর জন্য দাঁড়াতে হবে সাধারণ ট্রেনকে! নতুন নিয়মের পথে রেল

রেলের এই নতুন মাস্টার প্ল্যানের ফলে সাধারণ এক্সপ্রেস ট্রেনগুলির লেট হওয়ার সময় এবার ২ ঘণ্টা থেকে কমে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটে দাঁড়াবে বলেই দাবি করছে রেলওয়ে বোর্ড। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, দিল্লি–হাওড়া রুটে প্রতিদিন গড়ে ১২০ টির বেশি ট্রেন চলে। তবে বর্তমান সময়ে এই লাইনে সুপারফাস্ট ট্রেনগুলি গড়ে দেড় থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে চলে। তবে নতুন ব্যবস্থা চালু হলে এই লেট হবে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট। এমনকি দিল্লি–মুম্বাই রুটে কমন রানিং টাইম ফর্মুলার কারণে ট্রেনের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই ২৪ ঘণ্টায় আরও আটটি নতুন ট্রেনের স্লট বা জায়গা তৈরি হবে।