সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিঙ্ককে (Starlink) ঘিরে ভারতে আবারও নতুন করে জটিলতা। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে সংস্থাটির বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর অনুমোদন আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে বলে খবর। মূলত জাতীয় নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সামনে রেখেই এই সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে ইরান-আমেরিকার সংঘাতে (Iran-United States War) স্টারলিঙ্ক টার্মিনাল ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির উদ্বেগ বাড়ছে।
স্টারলিঙ্ক নিয়ে ফের বিলম্ব
বেশ কিছু সূত্রের দাবি, ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আওতায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত নিরাপত্তার অনুমোদন দেয়নি। সরকারি মহলের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে কোনও আন্তর্জাতিক সংঘাত বা জরুরী পরিস্থিতিতে বিদেশি নিয়ন্ত্রণাধীন যোগাযোগ পরিষেবার উপরে ভারতের কতটা নিয়ন্ত্রণ থাকবে তা নিয়ে নিশ্চয়তা প্রয়োজন। বিশেষ করে অভিযোগ উঠছে, ইরানের সরকারি লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও সেখানে স্টারলিঙ্ক টার্মিনাল ব্যবহার করা হয়েছিল। আর এই ঘটনায় ভারতের নিরাপত্তা মহলে ফের প্রশ্ন উঠছে।
বলে রাখি, ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় ইন্টারনেটের বাজার। গ্রামীণ এবং প্রত্যন্ত এলাকায়ও দ্রুত ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দিতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটকেই ভবিষ্যতে বড় প্রযুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর ঠিক এই কারণেই স্টারলিঙ্ক দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে। যদিও তারা এক বছর আগেই ভারতের লাইসেন্স পেয়েছিল। কিন্তু সেই লাইসেন্স শুধুমাত্র প্রস্তুতির অনুমোদন দিয়েছিল, সরাসরি পরিষেবা চালুর জন্য নয়।
এদিকে জানা গিয়েছে, স্টারলিঙ্ক ইতিমধ্যেই ভারতের টেলিকম কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষ নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিটির সামনে একাধিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে। কিন্তু এর পরেও ভারত সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রশ্ন উঠছে, ভারতীয় নিরাপত্তার নিয়ম ঠিক কতটা মানা হবে, বিদেশী সরকারের চাপ এলে সংস্থা কীভাবে খাপ খাইয়ে নেবে, এমনকি জরুরি পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের নির্দেশ মানা সম্ভব হবে কিনা।
আরও পড়ুন: দিঘা ভ্রমণে আর নয় যানজট, খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে নতুন বাইপাসের কাজ
স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে পড়বে প্রভাব
এদিকে স্টারলিঙ্কের অনুমোদন দেরী হওয়ায় ভারতে স্যাটেলাইট যোগাযোগও কিছুটা বিঘ্নিত হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। কারণ, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য প্রয়োজনীয় স্পেক্ট্রাম নীতি এবং মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি শেষ হয়নি। এমনকি এই পরিস্থিতি এমন সময় তৈরি হয়েছে, যখন এলন মাস্কের সংস্থা ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যতম বড় আইপিও আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জল্পনা চলছে আন্তর্জাতিক মহলে। এখন দেখার, কবে ভারতের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টারলিঙ্ক আত্মপ্রকাশ করে।










