ভোটদান বাধ্যতামূলক মামলা খারিজ, ‘কাউকে বাধ্য করতে পারি না’ বলল সুপ্রিম কোর্ট

Published:

Supreme Court

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনেই বাংলা সহ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। আর ভোটের আবহে নির্বাচনী প্রচার চলছে জোড়কদমে। তবে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) সম্প্রতি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যাতে প্রত্যেক নাগরিকের ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয় এবং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট না দিলে তাঁকে শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই মামলা খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটদানের বিষয়ে কাউকে বাধ্য করা যেতে পারে না। শুধুমাত্র সচেতনতা বাড়ানো যেতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হল ভোটদান বাধ্যতামূলক মামলা

আসলে সুপ্রিম কোর্টে করা ওই মামলায় মামলাকারীরা জানিয়েছিল যে, প্রত্যেকের ভোটদান বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট না দেয়, তাহলে তাঁকে গ্রেফতার বা শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করতে হবে। মামলাটি উঠেছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে। সবকিছু শুনে প্রধান বিচারপতি জানান, ভোটদানের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়। কিন্তু ভোট দিতে কাউকে বাধ্য করা যেতে পারে না।

বিচারপতি যুক্তি, যদি কোনও নিম্নবিত্ত মানুষ বলে যে, “আমাকে তো দিনমজুরি করে পেট চালাতে হয়। আমি কীভাবে ভোট দিতে যাব?” তাহলে আমরা এই প্রশ্নের উত্তরে কী বলব? কোনও ব্যক্তি ভোট না দিতে পারে। তাহলে আমরা তাঁর জন্য কী বা করতে পারি? এখন আমরা কীভাবে নির্দেশ দেব যে তাঁকে গ্রেফতার করা হোক? বিচারপতির সংযোজন, ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক করা আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। আদালত এই বিষয়ে কোনও রকম পদক্ষেপ নিতে পারে না। এই ধরনের নির্দেশিকা নীতি নির্ধারণকারী ক্ষেত্রের আওতায় পরে। বিচারবিভাগ এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

আরও পড়ুন: শীর্ষ আদালতে ধাক্কা খেল পশ্চিমবঙ্গ সরকার! হাইকোর্টের রায় বহাল সুপ্রিম কোর্টে

এমনকি প্রধান বিচারপতি এদিন আরও বলেন যে, আইনিভাবে জোরজবরদস্তি করে কাউকে ভোট দান করাতে বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে না। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এতেই গণতন্ত্রের সঠিক বিকাশ হয়। এই দেশ আইনের মাধ্যমে চলে এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাস রাখে। গত ৭৫ বছর ধরেই আমরা প্রমাণ করেছি যে, গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের ঠিক কতটা আস্থা। যদি কেউ ভোট দিতে না চায় তাহলে সে দেবেন না। এতে কারোর কিছু করার নেই। আমরা ভোট দেওয়ার বিষয়ে কাউকে বাধ্যতামূলক করতে পারি না। ভোটের দিনগুলিতে বিচারপতি সহ অন্য অনেক নাগরিককে নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। আর সেক্ষেত্রে ওই দিনগুলো তাঁদের কর্মদিবস হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকে। এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত।