শীর্ষ আদালতে ধাক্কা খেল পশ্চিমবঙ্গ সরকার! হাইকোর্টের রায় বহাল সুপ্রিম কোর্টে

Published:

Supreme Court

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শুরু থেকেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিশনের সঙ্গে বিরোধ বেঁধেই চলেছে প্রশাসনের। তার উপর রাজ্যের একের পর এক আধিকারিক এর বদলি নিয়ে কমিশনের ওপর বেশ ক্ষুব্ধ সরকার। যদিও আগেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ সরকারি আধিকারিকদের অপসারণ নিয়ে তৃণমূলের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। এমনকি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তেও হস্তক্ষেপ করেনি কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। আর এবার একই পথে হাঁটল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল আধিকারিক বদলির (West Bengal Officers Transfer) সিদ্ধান্তে আপাতত হস্তক্ষেপ করছে না শীর্ষ আদালত। মাথায় হাত পড়ল প্রশাসনের।

মামলা খারিজ করে দিয়েছিল হাইকোর্ট

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করার পরেই ওইদিন রাত থেকেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের একে একে পরিবর্তন করতে শুরু করেছিল কমিশন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে পুলিশ ও প্রশাসনের আরও বেশ কয়েকজন কর্তাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে শোনা যায় তাঁদের কয়েকজনকে অন্য রাজ্যে ভোটের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই এই প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে প্রথমে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়।হস্তক্ষেপ করেনি কলকাতা হাই কোর্ট।

পাল্টা সুপ্রিম কোর্টে মামলা রাজ্যের

আদালতের পর্যবেক্ষণ, “শুধুমাত্র অনেক কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে বলে তা ইচ্ছাকৃত, স্বেচ্ছাচারী বা বিদ্বেষমূলক বলা যায় না। বিশেষত যখন সারা দেশে একই ধরনের বদলি হয়েছে। শুধুমাত্র বেআইনি বা ক্ষমতার বাইরে কিছু হলে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে। বদলি চাকরির স্বাভাবিক অংশ। যদি কোনও কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তিনি নিজে আইনি পথে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিছু রাজনীতিবিদদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ আনা হলেও, তাঁদের মামলায় পক্ষ করা হয়নি এবং কোনও প্রমাণও দেওয়া হয়নি। তাই বিদ্বেষের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।” এই রায় দানের পরেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে রাজ্য। কিন্তু সেখানেও হাই কোর্টের নির্দেশই বহাল রাখল শীর্ষ আদালত।

হাই কোর্টের নির্দেশই বহাল সুপ্রিম কোর্টে

অফিসার বদল প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-র পর্যবেক্ষণ, অফিসারদের বদলির ঘটনা সর্বত্রই ঘটে, এটা প্রথম বার নয়। তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করে জানান, বদলির আগে রাজ্যের সঙ্গে পরামর্শ করার প্রয়োজন ছিল। অতীতেও উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু এ বারে কোনও পরামর্শই করা হয়নি। এর পরেই প্রধান বিচারপতি কান্ত জানান, যাঁদের বদলি করা হয়েছে, তাঁরা তো পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের অফিসার, তা হলে এতে পক্ষপাতের অভিযোগ কেন? দুঃখের বিষয় হল আস্থার ঘাটতি দুই পক্ষের মধ্যেই রয়েছে। কমিশনের রাজ্য প্রশাসনের উপর আস্থা নেই, আবার রাজ্যেরও কমিশনের উপর ভরসা নেই।’’

আরও পড়ুন: হাইকোর্টের রায়ে ঘুরে গেল খেলা! বড় স্বস্তি পেলেন নন্দীগ্রামের পবিত্র কর

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আধিকারিক বদলি প্রসঙ্গে রাজ্যকে জানান, “নির্বাচনকে সামনে রেখে বদলির বিষয়টি দেখা উচিত নয়। বাইরের রাজ্যের পর্যবেক্ষক অনেক সময় নিরপেক্ষতার দিক থেকে আদর্শ হতে পারেন। আদালত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিষয়টি দেখছে। কিন্তু যদি আগামী দিনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়, আর তখন যদি বলা হয় যে, তা আইনে স্পষ্ট ভাবে লেখা নেই—তাহলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।