“ইন্টারনেট ব্যবহার শিশুদের মৌলিক অধিকার” কড়া পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

Published:

Supreme Court

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বর্তমান সময়ে বাচ্চাদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া বা ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা যেন বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। এবার এ নিয়ে বড় পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকারকে মৌলিক অধিকার বলেই চিহ্নিত করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এবার থেকে কম বয়সীদের আর ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না বলেই জানিয়েছে বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রন এবং বিচারপতি যে পার্দিওয়ালার ডিভিশন বেঞ্চ।

ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের

বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, ইন্টারনেট ব্যবহার বা অনলাইনে অন্য কারো সঙ্গে যোগাযোগ করার অধিকার সংবিধানের ২১ এবং ১৯(১)(এ) ধারা অনুযায়ী সম্মত। এই অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা যায় না। আদালত আরও জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মগুলির সঙ্গে কথা বলে কেন্দ্রীয় সরকারকে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সমস্ত কনটেন্ট মুছে ফেলতে হবে যেগুলি শিশুদের মধ্যে খারাপ প্রভাব ফেলে।

বিচারপতিদ্বয়ের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “আমাদের এটা বলতে কোনও সংশয় নেই যে সংবিধান ২১ এবং ১৯(১)(এ) ধারা অনুযায়ী ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক অধিকার সকলের মধ্যেই পড়ে। বয়স যাই হোক না কেন, শিশুদেরও সেই অধিকার রয়েছে। একটি নির্দিষ্ট বয়স না হলে কোনও শিশু নিজের মতামত প্রকাশের অধিকারকে রক্ষা করতে পারে না, এরকম মনে করার কোনও কারণ নেই। সেই কারণে তাদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার কোনও পরিস্থিতি নেই।

আরও পড়ুন: পুজোর মধ্যেই গ্রেফতারির আশঙ্কা, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

যদিও সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। কোনও রকম অশ্লীল কনটেন্ট যেন সোশ্যাল মিডিয়ায় না থাকে, সে ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেই জানিয়েছে বেঞ্চ। আদালতের সুপারিশ, শিশুদের ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে এমন কোনও পোস্ট করলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকা জরিমানার ব্যবস্থা করতে হবে। এমনকি প্রয়োজনে জেলেও পর্যন্ত পাঠানো হতে পারে। পাশাপাশি সেই কনটেন্ট থেকে রোজগার করলে তা সেই রাস্তা চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে বলেও জানিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

google button