৫৭ বছর বয়সে NEET পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন অশোকবাবুর

Published:

National Eligibility Cum Entrance Test

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বয়স শুধুমাত্র একটি সংখ্যা মাত্র, এই প্রচলিত প্রবাদ আরও একবার সত্যি করে দেখালেন লখনৌয়ের আলমের বাসিন্দা ৫৭ বছর বয়সী অশোক বাহার। রবিবার আয়োজিত ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বা NEET পরীক্ষায় (National Eligibility Cum Entrance Test) অংশগ্রহণ করে তিনি আবারও প্রমাণ করে দিলেন যে সদ ইচ্ছা থাকলে লক্ষ্য পূরণের কোনও রকম বয়সসীমা থাকে না।

কেন এই বয়সে ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন তাঁর?

আসলে লখনৌ এর চন্দননগরের বাসিন্দা অশোকবাবু আগে একটি সার প্রস্তুতকারক সংস্থার মার্কেটিং প্রধান হিসেবেই কর্মরত ছিলেন। তবে ২০০০ সালে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। আর তাঁর পরিবারের শিক্ষার পরিবেশ বরাবরই উন্নত। তাঁর স্ত্রী ডঃ মঞ্জুল বাহার নিজেই একজন চিকিৎসক এবং বর্তমানে আমেরিকায় কর্মরত। এছাড়া তাঁর আত্মীয়দের মধ্যে অনেকেই চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত।

পরিবারের এই পরিমণ্ডলই তাঁর মূলত চিকিৎসা বিদ্যা পড়ার স্বপ্ন দেখতে নতুন করে উৎসাহিত করেছে। অশোক বাবুর কথায়, “আমি ওষুধ সম্পর্কে অনেক কিছুই জানি। তবে কারোর প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লেখার অধিকার আমার এখনও পর্যন্ত নেই। সেই অধিকার পেতে গেলে অবশ্যই ডিগ্রির প্রয়োজন। তাই আমি এই লড়াই করছি।”

আরও পড়ুন: ডলারের বিপরীতে রেকর্ড মান বদল ভারতীয় টাকার, দেখুন রেট

এদিকে রবিবার লখনৌয়ের মন্টেসরি স্কুলের পরীক্ষা কেন্দ্রে যখন একঝাঁক তরুণের ভিড়ে অশোক বাহারকে দেখা যায়, তখন অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর চোখমুখে ছিল আত্মবিশ্বাস। তিনি জানিয়েছিলেন, NEET পরীক্ষার জন্য কোনও ঊর্ধ্বসীমা না থাকার কারণে তিনি এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছেন। অশোক বাহার মনে করেন যে, শুধুমাত্র বয়স বা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে স্বপ্ন বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়, বরং লক্ষ্য যদি স্পষ্ট হয় এবং কঠোর পরিশ্রম করার সাহস থাকে, তাহলে যে কোনও সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। আর পরীক্ষায় সফল হওয়া বড় কথা নয়, বড় কথা হল চেষ্টার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। আর তিনি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই আজ এখানে দাঁড়িয়ে।