নজরদারি চালাবে ভারতের ‘তৃতীয় চোখ’! ৪ সেপ্টেম্বর মহাকাশে যাচ্ছে EOS-5

Published:

EOS-5

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পরপর ব্যর্থ হয়েছিল দুটি পিএসএলভি মিশন। তবে ব্যর্থতাকে কাঁধে নিয়েই এবার বড় পদক্ষেপ ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে জিএসএলভি এফ১৭ রকেটে মহাকাশে পাঠানো হতে পারে ইওএস-৫ (EOS-5)। জানলে অবাক হবেন, উচ্চ রেজোলিউশনের ভূ-পর্যবেক্ষণকারী এই উপগ্রহটি ক্রমাগত ভারতের উপর নজরদারি করবে। এমনকি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

মহাকাশে যাচ্ছে ইওএস-৫

যেমনটা জানানো হল, পরপর দুটি পিএসএলভি অভিযানের ব্যর্থতার পর মহাকাশে হারানো গতি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে ইসরো। তবে এই মিশন সফল হলে তা ভারতকে মহাকাশ থেকে তার ভূখণ্ড, উপকূল রেখা, আবহাওয়া ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ প্রবণ এলাকা পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই মিশন শুধুমাত্র নতুন উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য নয়, বরং মহাকাশ গবেষণায় ভারতের জন্য এটি এক বিরাট মাইলফলক হিসেবেই উঠে আসছে।

জানিয়ে রাখি, ইওএস-৫ স্যাটেলাইটকে আগে জিআইএসএটি-১এ কর্মসূচির সাথে যুক্ত করা হয়েছিল। এমনকি এবার উপগ্রহটি পৃথিবীর নিরক্ষরেখা থেকে আনুমানিক ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় জিওস্টেশনারি কক্ষপথে স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সাধারণত পৃথিবীপৃষ্ঠের স্যাটেলাইট নির্দিষ্ট সময় অন্তর কোনও একটি এলাকার উপর দিয়ে অতিক্রম করে। কিন্তু জিওস্টেশনারি কক্ষপথে থাকা উপগ্রহ পৃথিবীর নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপর একই অবস্থানে থাকতে পারে। এমনকি এই কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকা বারবার পর্যবেক্ষণ করা বা দ্রুত আপডেট পাওয়া সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন: উলটপুরাণ, রাশিয়ার সবচেয়ে বড় পেট্রোল রপ্তানিকারক দেশ হয়ে উঠল ভারত

ইসরোর চেয়ারম্যান আগামী ৪ সেপ্টেম্বর এই অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবেই জানিয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সমস্ত প্রস্তুতি বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন হলেই তা উৎক্ষেপণ হবে। এমনকি বলে রাখা প্রয়োজন, ২০২৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত একাধিক মহাকাশ মিশন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে ইসরোর। যার মধ্যে গগনযান কর্মসূচির প্রথম মানবহীন মিশন জি১ অন্যতম। এছাড়া পৃথিবী পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে যোগাযোগ, নেভিগেশন, বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য একাধিক উপগ্রহ এবং লঞ্চ ভেহিকেল মিশন সম্পন্ন করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে ইসরোর তরফ থেকে। এখন দেখার, পরপর দুটি মিশনে ধাক্কা খাওয়ার পর এই মিশন আদৌ সফল হয় কি না।